শিরোনাম
◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৪:০২ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৭:৩১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর তিন শহরে যৌন বাণিজ্যের বিস্তার

এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো। এ উপলক্ষে দেশটির ১০টির মধ্যে ৯টি মাদক কার্টেল ও অপরাধী চক্র জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য জোরদার করছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে মেক্সিকোতে মানবপাচার ও যৌন বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ আসরে মেক্সিকো মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এর মধ্যে ৫টি মেক্সিকো সিটিতে। গুয়াদালাহারা ও মন্টেরোয় ৪টি করে ম্যাচ হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই তিনটি শহরেই টুর্নামেন্ট চলাকালে যৌন বাণিজ্যের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। কারণ, এসব বাজারে অপরাধী সংগঠনগুলোর শক্তিশালী প্রভাব আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকদের আগমনে যে অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হবে, তার একটি অংশও এসব গোষ্ঠীর হাতে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ল্যাতিন টাইমস।

মেক্সিকোর অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম অ্যানিমাল পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্টেরেয়েতে যৌন বাণিজ্যের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে নর্থইস্ট কার্টেল, যা লস জেটাস থেকে বিভক্ত হয়ে গঠিত আলাদা একটি গোষ্ঠী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লস বিলিস নামের একটি অপরাধী গোষ্ঠীর উপস্থিতিও সেখানে রয়েছে। এর শিকড় বেলত্রান লেইভা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। মন্টেরেয়ের কিছু এলাকায় সিনালোয়া কার্টেলও সক্রিয়। বিশেষ করে বারিও অ্যান্টিগুয়া নামের নাইটলাইফ এলাকাটিতে তারা বেশি সক্রিয়। সেখানে বার ও এসকর্ট সার্ভিসের উপস্থিতি বেশি।

গুয়াদালাহারায় প্রধানত হালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজিএনজি) নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে যৌন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কার্টেল পরিচালকদের নিয়মিত ফি দিতে হয়। মেক্সিকো সিটির পরিস্থিতি আরও জটিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারণ সেখানে একাধিক অপরাধী সংগঠন বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করে। শহরের দক্ষিণ অংশে ভেনেজুয়েলার গ্যাং ট্রেন দে আরাগুয়া এবং তালাউয়াক কার্টেল একসঙ্গে প্রভাব বিস্তার করছে বলে দাবি করা হয়। কেন্দ্রীয় এলাকায় সিজিএনজি সক্রিয়। বিশেষ করে লিন্ডাভিস্তা ও ভালেয়ো অঞ্চলে। পূর্ব মেক্সিকো সিটিতে সিনালোয়া কার্টেলের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

মেক্সিকোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য এখন মাদক কার্টেলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রায় ১০টির মধ্যে ৯টি অপরাধী গোষ্ঠী এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হয়। গবেষণা সংস্থা ওআইএল (ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই অবৈধ বৈশ্বিক বাজারের আকার বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

মিলেনিও নামের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং স্থানীয় মাদক বিতরণ নেটওয়ার্কেও প্রভাব বিস্তার করে। কোআউইলা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা গবেষক ভিক্টর সানচেজ ভালদেস বলেন, যৌন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অপরাধী সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীদের মাদক বিক্রি বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহেও ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে পর্যটক বৃদ্ধি পেলেও অপরাধী চক্রগুলো এসব পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা মানবপাচারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়