শিরোনাম
◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক ◈ ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস, সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ◈ স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে ◈ ডিপফেক-মিথ্যা তথ্য রোধে এআই নীতিমালা আনছে সরকার ◈ গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে পুলিশের অভিযান, ২৮ জন আটক ◈ হাদি হত্যা মামলায় জাবেরকে বাদী করার কারণ জানতে চান বোন মাসুমা ◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৯:১৭ রাত
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাহাড় ভেদ করে তৈরি মানবসৃষ্ট জলপথ

চীনের হ্যনান প্রদেশের লিনচৌ এলাকার মানুষের একসময় কষ্টের শেষ ছিল না। চারপাশে বৃষ্টি হলেও তাদের নিজেদের জমিতে খরায় মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যেত। ষাটের দশকে এই পানির কষ্ট দূর করতে ওখানকার মানুষ এক অসম্ভবকে সম্ভব করার সিদ্ধান্ত নেন, পাহাড় কেটে পানির খাল তৈরির কাজে নেমে পড়েন তারা।

আজকের দিনে শানসি প্রদেশ থেকে লিনচৌতে যে খাল দিয়ে পানি আসে, সেটির নাম ‘রেড ফ্ল্যাগ ক্যানাল’। থাইহাং পর্বতের খাড়া ঢাল বেয়ে প্রায় ৭১ কিলোমিটার জুড়ে খালটি সবুজাভ ফিতার মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে। সকালে যখন সূর্যের আলো এই খালের পানিতে পড়ে, তখন চারপাশের পাহাড়গুলো চমৎকারভাবে ঝলমলিয়ে ওঠে।

ফরাসি সংস্কৃতি গবেষক জেরোমি ক্লেমেন্ট বহু বছর পর আবার খালটি দেখতে এসে অবাক হয়ে যান। ১৯৭৪ সালে এক শিক্ষা সফরে এসে তিনি প্রথমবার এটি দেখেছিলেন। তখনকার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি একটি প্রামাণ্যচিত্রে বলেন, এলাকাটি খুব অনুন্নত ছিল। কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি, গাড়ি বা রেলপথ ছিল না। শুধু হাত আর পায়ের জোরে, আদিম সব সরঞ্জাম ব্যবহার করে লাখো মানুষ এক দশকেরও বেশি সময় নিয়ে খালটি খনন করেছিলেন।

দশক পার হয়ে গেছে। আজও দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এই খালের সবচেয়ে কঠিন অংশ ‘ইয়ুথ কেভ’ দেখতে আসেন। শ্রমিকদের হাত দিয়ে তৈরি করা পাথরের গর্তগুলোতে হাত দিয়ে তারা যেন ইতিহাসের সেই কঠিন সময়টাকে অনুভব করার চেষ্টা করেন।

লিনচৌর পর্যটন কর্মকর্তা সং শাংচু জানান, দর্শনার্থীরা চাইলে নৌকায় করে এই গুহার ভেতর দিয়ে যেতে পারেন, আবার খালের পাড় ধরে হেঁটেও মানুষের এই অবিশ্বাস্য পরিশ্রমের শক্তিকে কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন।

এই গুহা থেকে ট্যাক্সিতে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ‘লৌওসি পুল’। এটি চৌচাং নদীর একটি গভীর জলাধার, যেখান থেকে মূলত এই খালে পানি আনা হয়।

বহু মানুষের ত্যাগে তৈরি খালটি এখন চীনের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: চায়না ডেইলি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়