শিরোনাম
◈ যৌন হয়রানির অপরা‌ধে ৫ বছর নিষিদ্ধ গায়ানা ফুটবল কর্মকর্তা ইয়ান আলভেস ◈ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন পড়ে আতঙ্ক, বিজিবির হেফাজতে উদ্ধার করা হয়েছে ◈ টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আটে বাংলাদেশ ◈ চীনের নেতৃত্বাধীন বাণিজ্যিক জোট আরসেপে যোগ দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ ◈ সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩৮ অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর ◈ দেশের ইতিহাসে এত চমৎকার নির্বাচন আগে কখনো হয়নি: সেনাপ্রধান ◈ এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ◈ শাপলা চত্বর মামলা: ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ◈ হরমুজে আটকে থাকা জাহাজের সংখ্যা প্রায় ২০০০! ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:৩৪ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে ৯০ লাখ ভোটার বাদ: বাতিল বেশি যেসব আসনে, সেখানেই বিজেপির দাপট

চলতি বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল রেকর্ড সংখ্যক ভোটারের নাম বাতিল করে দেওয়া। এই নির্বাচনেই তৃণমূলের দুর্গে প্রবল ধাক্কা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ১৫ বছরের সরকারের পতন ঘটিয়েছে বিজেপি।

মৃত ও ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার কথা বলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু করেছিল দেশটির নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে রাজ্যের প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।

নিজেদের ভোটব্যাংক কমার আশঙ্কায় শুরু থেকেই সরব ছিল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর প্রক্রিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আদ্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট। 

ইকোনমিক টাইমসের পর্যালোচনা অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০টি আসনে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় 'অযোগ্য' ঘোষিত ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি। যেসব ভোটারের তথ্য এখনও যাচাই প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে, সেই সংখ্যা ধরলেও তা এই আসনগুলোর জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে গেছে।

বেশ কয়েকটি আসনে দেখা গেছে, 'অযোগ্য' বলে বিবেচিত বা যাচাই পর্বে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের দুই-তিন গুণ বা তারও বেশি। আর এখানেই ফলাফলের ওপরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিলের এই প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে রাজ্যের ১৪৭টি আসনে। আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র পর্যালোচনা বলছে, এর মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এই ১৪৭ আসনের মধ্যে ৯৫টিতেই জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে প্রায় তার অর্ধেক, ৫১টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে মাত্র একটি।

যে ৬৭টি আসনে ১৫ থেকে ২৫ হাজার করে ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, সেখানেও বেশিরভাগ আসনে জিতেছে বিজেপি। ওই আসনগুলোর মধ্যে ৪৭টিতে তারা জিতেছে। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছে ১৯টি ও কংগ্রেস একটি আসন।

৫ থেকে ১৫ হাজার করে ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে, এমন ৬২টি আসনের মধ্যে ৫০টিতেই জিতেছে বিজেপি। বাকি আসনগুলো গেছে তৃণমূলের দখলে। পাশাপাশি পাঁচ হাজারের কম নাম বাদ পড়া ১৩ আসনের সব কটিতেই জিতেছে পদ্ম-শিবির।

যাচাই প্রক্রিয়ার সময় সব চেয়ে বেশি 'বাতিলযোগ্য' ভোটার পাওয়া গেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে ৪ লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর পরেই তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৬৬) ও মালদহ (২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫)।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের মধ্যে ২০টিতেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানে তাদের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯টিতে। পরিসংখ্যান ইন্দিত দিচ্ছে, এ জেলায় সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে গেছে এবং হিন্দু ভোট একাট্টা হয়ে বিজেপির পক্ষে পড়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে উত্তর ২৪ পরগনাতেও। ২০২১ সালে এই জেলার ৩৩ আসনের মধ্যে ২৮টিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮টিতে। অন্যদিকে মালদহের ১২ আসনের মধ্যে গতবার আটটি পেয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানে তাদের আসন সংখ্যা কমে হয়েছে ছয়টি। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছে বিজেপি।

বাংলাদেশের সঙ্গে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। এই রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া প্রথম থেকেই তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ায় রেকর্ড ৯১ লাখ ভোটারকে দেশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার 'অযোগ্য' বলে চিহ্নিত করা হয়।

গত নভেম্বরে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখেরও বেশি। ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যায়, ৫৮ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ৬৬ হাজারে।

রাজ্যের প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬০ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি নাম আইনি যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারকে 'বাতিলযোগ্য' বলে চিহ্নিত করা হয়। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মোট বাতিল হওয়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫।

ভোটার বাতিলের প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণবঙ্গের চাঁপদানি কেন্দ্রের কথা বলা যায়। এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান মাত্র ১৩ ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপির দিলীপ সিংহ। অথচ যাচাই পর্বে সেখানে ৭ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

করণদিঘিতে যাচাই পর্বে 'অযোগ্য' ভোটারের সংখ্যা ৩১ হাজার ৫৬২ জন। অথচ সেখানে জয়ের ব্যবধান ১৯ হাজার ৮০০-র সামান্য বেশি। এই কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপির বিরাজ বিশ্বাস।

একই ছবি জঙ্গিপুরেও। সেখানে ৩৬ হাজার ৫৮১ জন ভোটারকে 'অযোগ্য' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জয়ের ব্যবধান মাত্র ১০ হাজার ৫৪২। এখানেও জয়ী হয়েছে পদ্মশিবির।

মন্তেশ্বরে ২৩ হাজার ৪২৩ জন 'অযোগ্য' ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ সেখানে জয়ের ব্যবধান ১৪ হাজার ৭০০।

উত্তরবঙ্গের দিনহাটা থেকে দার্জিলিং, কিংবা রায়না থেকে বালি—সর্বত্রই কার্যত একই ছবি দেখা গেছে। যেমন বালিতে যাচাই পর্বের অপেক্ষায় থাকা ভোটারের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৮৬। অথচ ওই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান মাত্র ৪ হাজার ৬০০-র কাছাকাছি।

তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের ক্ষেত্রেও এমন বেশ কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। শমসেরগঞ্জে যাচাই প্রক্রিয়ায় থাকা 'অযোগ্য' ভোটারের সংখ্যা ৭৪ হাজারেরও বেশি। অথচ সেখানে জয়ের ব্যবধান সাড়ে ৭ হাজারের সামান্য বেশি। মানিকচক, সুতি, লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জের মতো কেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। লালগোলায় যেখানে ৫৫ হাজার ৪২০টি যাচাই পর্বের মামলা ঝুলে রয়েছে, সেখানে জয়ের ব্যবধান ১৯ হাজারের মতো। আবার সুতিতে যাচাইয় প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৫ জন ভোটার। অথচ ওই কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান মাত্র ১২ হাজার ৩৫০-এর কাছাকাছি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়