শিরোনাম
◈ গ্যাস-তেল অনুসন্ধানে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে সরকার, ৬৯টি কূপ খনন করবে বাপেক্স ◈ অনিশ্চয়তায় প‌ড়ে‌ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভর্তি রোগীরা, লাইসেন্স বাতিল ঘিরে বিতর্ক ◈ সীমান্তে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ-ভারত ◈ ‘সুপার’ এল নিনোর আনুষ্ঠানিক আগমন, পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ংকর হতে পারে: বিজ্ঞানীরা ◈ কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না, আমাদের উন্নয়নে চীন সহযোগিতা করছে: মির্জা ফখরুল ◈ বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ◈ করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে ◈ "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে বললেন, চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’, ইউরোপে সই হবে" ◈ ভারত ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হতে পারে: দিনেশ ত্রিবেদী ◈ ধৃষ্টতা সকল সীমা ছাড়িয়েছ’; অভিনেত্রী শাওনকে নিয়ে তাজুল ইসলামের ক্ষোভ

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৩ দুপুর
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৫ দিনে ৫ হামলা: প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানে বাড়ছে উদ্বেগ

আবারও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক বহনকারী দাবি করে চালানো এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে পঞ্চমবারের মতো দেশটিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনের’ মাধ্যমে পরিচালিত একটি নৌকায় তারা ‘প্রাণঘাতী গতিশীল হামলা’ (লিথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক) চালিয়েছে। তবে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীটির নাম প্রকাশ করেনি তারা।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই অভিযানে তিনজন পুরুষ মাদক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।’ সবশেষ এই হামলার পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে দুটি নৌকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মোট পাঁচজন নিহত হন এবং একজন জীবিত উদ্ধার হন। এরপর মঙ্গলবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, তারা একই এলাকায় আরও চারজনকে হত্যা করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় তথাকথিত ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে তারা কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত। তবে যেসব নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কি না এ বিষয়ে কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। ফলে এসব অভিযানের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই হামলাগুলো সম্ভবত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল। কারণ, আপাতদৃষ্টে এমন সব বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিলেন না।

গত জানুয়ারিতে ক্যারিবীয় সাগরে একটি ছোট নৌকায় হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেন আইনজীবীরা। গত অক্টোবরের ওই হামলায় ত্রিনিদাদের একটি গ্রামের দুই ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের পরিবারের পক্ষে করা ওই মামলায় বলা হয়, ‘পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃতভাবে করা এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তিসংগত কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) গত ডিসেম্বরে বলেছে, ‘যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশাসন ভিত্তিহীন ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী দাবি করে যাচ্ছে। অথচ তদন্তে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন সাধারণ জেলে, যারা স্রেফ পরিবারের ভরণপোষণের চেষ্টা করছিলেন।’

গত মাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি জোয়াকিন কাস্ত্রো এবং সারা জ্যাকবস ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি লিখেছেন। সেখানে তাঁরা উল্লেখ করেন, নিহতদের অধিকাংশেরই নাম ও জাতীয়তা এখনো অজানা রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যস্ত থাকলেও লাতিন আমেরিকায় নৌকায় হামলার এই হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে। 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়