শিরোনাম
◈ ইলিয়াস আলী গুম: ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত ◈ ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা ◈ ওয়ান-ইলেভেনের তিন কুশীলব ডিবি হেফাজতে: মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরোচ্ছে নতুন তথ্য ◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত : ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:৪৩ দুপুর
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টিউলিপের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি, বাংলাদেশ হাইকমিশনে ব্রিটিশ আইনজীবীদের চিঠি

দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং লন্ডনে উপহার পাওয়া দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য গোপন করায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ব্রিটেনের সিটি ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সাবেক নগরমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিচারকে ‘পরিকল্পিত ও অন্যায্য’ বলে অভিযোগ করেছেন একদল ব্রিটিশ আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা প্লট দুর্নীতি মামলার রায়ের ঘোষিত হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। এর আগে আইনজীবীরা এই অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশে মামলার তদন্ত হয়েছে এবং সেই মামলার রায় দেওয়ার সময়ও তিনি উপস্থিতি থাকবেন না। মামলা পরিচালনাকারী পক্ষ তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি করেছে।

হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের এমপি টিউলিপ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি। গত বছর ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সাবেক ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভসহ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল আইনজীবী বলেন—টিউলিপ ন্যায়বিচারের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁকে অভিযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া হয়নি, এমনকি আইনি সহায়তাও পাননি।

আইনজীবীদের এই দলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার, ফিলিপ স্যান্ডস ও জিওফ্রি রবার্টসনও আছেন। তাঁরা সবাই কিংস কাউন্সেল, অর্থাৎ রাজা কর্তৃক উচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত আইনজীবী।

তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন—টিউলিপ যে আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাঁকে গৃহবন্দী করা হয় এবং তাঁর মেয়েকে হুমকিও দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, টিউলিপকে অভিযোগ বা প্রমাণ সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি। তিনি আইনি প্রতিনিধিও পাননি। যে আইনজীবীকে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন, তিনি বাধ্য হয়ে সরে দাঁড়ান। চিঠিতে বলা হয়, ‘এমন প্রক্রিয়া মূলত কৃত্রিম। এটি এক ধরনের সাজানো, অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়া।’

টিউলিপ, তাঁর খালা, মা, ভাই ও বোনসহ অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলার বিচার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর খালা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে ঢাকার এক উপশহরে মায়ের জন্য একটি জমি বরাদ্দ করাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। যদিও টিউলিপ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আইনজীবীরা লেখেন, ‘বাংলাদেশে চলমান এই ফৌজদারি মামলাগুলো নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগে আছি। বিশেষত এমন সময়ে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিয়মিত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের কথা বলছেন।’ তাঁরা বলেন, ‘যেহেতু টিউলিপ যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক, তাঁকে পলাতক বলা যায় না। তিনি নির্বাচিত এমপি, হাউস অব কমন্সেই তাঁকে পাওয়া যাবে। যথাযথ কারণ থাকলে বাংলাদেশ চাইলে তাঁকে ফেরত নিতে পারে।’

তাঁদের মতে, ‘টিউলিপ সিদ্দিকের অনুপস্থিতিতে এই বিচার অন্যায্য। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং একেবারেই পাচ্ছেন না বলা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার করার প্রয়োজনীয় কারণও দেখানো হয়নি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এ প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে পিছিয়ে।’

আইনজীবীরা বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘এসব অনিয়ম সংশোধন করে ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করুন।’

এর আগে একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খালা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি বাংলাদেশ থেকে অন্যায্য সুবিধা পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার নীতিমালা বিষয়ক স্বাধীন উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস গত জানুয়ারিতে তদন্ত করে টিউলিপকে এসব অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন। তবে ম্যাগনাস মন্তব্য করেন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সরকারি দায়িত্বের কারণে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সুনাম-ঝুঁকি সম্পর্কে টিউলিপের আরও সচেতন থাকা উচিত ছিল।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়