শিরোনাম
◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে

প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৭ দুপুর
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ফিলিস্তিনিদের বেদনা কেন দেখা যায় না?

এল আর বাদল : গাজায় কোন শান্ত রাত নেই, যুদ্ধবিরতির আগেও নয়, শার্মুশ-শেখ শান্তি ঘোষণার পরেও নয়। মিডল ইস্ট আই middle east eye  সম্প্রতি “লাবনা মাসারোওয়ার একটি প্রবন্ধ ছেপেছে। ওই প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, মিশরের সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট শার্ম-আশ-শেখ-এ যখন বিশ্ব নেতারা হাসছিলেন এবং গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে করমর্দন করছিলেন, তখন ইসরাইলি সেনাবাহিনী থেমে থেমে গাজায় বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিল; যেন তারা নিঃশ্বাস নেওয়ারও বিরতি দেয়নি। --- পার্সটু‌ডে

যুদ্ধবিরতির ঠিক একদিন পরেই ইহুদিবাদী সরকার ১০৪ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে; যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু এবং একই পরিবারের ১৮ জন সদস্য রয়েছে। নিহতদের অনেকের নামও ছিল না; তারা নীরবে এবং বেনামে শহীদ হয়েছেন।

বিশ্বের কাছে, ফিলিস্তিনিরা আর মানুষ নেই; তারা আবেগহীন, অতীতহীন, গল্পহীন এবং ভবিষ্যৎহীন প্রাণী হয়ে উঠেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম তাদের বন্দীদের জীবন সম্পর্কে, তাদের প্রিয় খাবার থেকে শুরু করে পরিবারের কাছে ফিরে আসার মুহূর্ত পর্যন্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেও, গাজার শহীদ শিশুদের জন্য কেউ চোখের জল ফেলে না।

যুদ্ধবিরতির দিন, ইসরাইলি টেলিভিশন একটি দৃশ্য সম্প্রচার করে; একজন ইসরাইলি বন্দীর স্ত্রী তার পাঁচ বছরের ছেলেকে জাগিয়ে বলেন তার বাবা ফিরে এসেছেন। টিভি উপস্থাপকদের চোখে জল ছিল। কিন্তু একই দিনে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বন্দীদের বাড়িতে অভিযান চালায়; যারা মুক্তি পেতে যাচ্ছিল। পরিবারগুলোকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে তাদের প্রিয়জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও তাদের উৎসব উদযাপন করার কোনও অধিকার নেই।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের একজনের মেয়ে রাজান বলেন: সৈন্যরা আমাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে, আমাদের হুমকি দিয়েছে এবং কাউকে আমার বাবাকে অভিনন্দন জানাতেও দেয় নি! একই অভিযানে একজন যুবক আহত হয় এবং আরও বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

গাজায়, একজন মুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দী হাইসাম সালেম তার মুক্তির পর জানতে পারেন যে তার স্ত্রী এবং তিন সন্তান ইসরাইলি হামলায় শহীদ হয়েছেন। হাসপাতালে, তিনি চিৎকার করে বললেন: "আমার বাচ্চারা কি বেঁচে আছে? না... তারা মারা গেছে। আমার মেয়ের জন্মদিন চার দিন পরে।" তিনি কারাগারে তার মেয়ের জন্য তৈরি ব্রেসলেটটি তুলে বললেন: "আমি এটা তার জন্য তৈরি করেছি, নিজের হাতে।"

তার মেয়েটি সেই ইসরাইলি বন্দীর ছেলের সমান বয়সী ছিল যার জন্মদিন সে কয়েকদিন আগে উদযাপন করেছিল। কিন্তু সালেমের জন্য, কেউ চোখের পানিও ফেলল না এবং তার মুক্তিকে স্বাগত জানাতেও কেউ বাকি রইল না।

যখন ইসরাইল তার "আত্মরক্ষার অধিকার" নিয়ে কথা বলছে, তখন কেউ গাজা বা পশ্চিম তীরের মানুষকে রক্ষা করছে না। এমনকি ২০,০০০ শিশু সহ ৬৮,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনির জীবনও বিশ্বকে প্রতিক্রিয়া জানাতে যথেষ্ট নয়।

এক রাতে, ইসরাইলি বোমা শত শত মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। আক্রমণের আগে ইসরাইল কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করে এবং পরের দিন, শিশুদের মৃতদেহ দাফন করার আগেই আবার "যুদ্ধবিরতি" ঘোষণা করা হয়।

শার্মুশ-শেখ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী সরকারগুলো ফিলিস্তিনিদের পরামর্শ দেয় যে স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র উপায় হল আলোচনার মাধ্যমে, প্রতিরোধের মাধ্যমে নয়। কিন্তু ইসরাইল দেখিয়েছে যে তারা কোনও চুক্তি মেনে চলবে না।

"যুদ্ধোত্তর" একটি নতুন মডেল রূপ নিচ্ছে; ইসরাইল দ্বারা পরিকল্পিত এবং আরব ও মুসলিম নেতাদের দ্বারা অনুমোদিত একটি মডেল, যেখানে ট্রাম্পের সাথে হাসিমুখে করমর্দন করা হবে। এই মডেলে, "প্রতিরক্ষার অধিকার" "জানার অধিকার"-এর স্থানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, যার অর্থ বাস্তবে ইসরাইল যখনই চাইবে তখনই ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার স্থায়ী লাইসেন্স পেলো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়