শিরোনাম
◈ নতুন-পুরনো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা: এনআইডি ব্লকের প্রস্তুতি, নতুন তালিকা হচ্ছে, নজরদারিতে স্বজনরাও ◈ বিদ্যুৎ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফ‌রে যাচ্ছে ◈ লিও‌নেল মে‌সি স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন, বা‌র্সেলোনার অভিনন্দন ◈ রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: যুক্তিতর্ক শুনানি আজ ◈ মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যেও নীরব দিল্লি, বক্তব্য নেই বিজেপির ◈ মরুভূমির দেশ হয়েও কেন বালু আমদানি করে সৌদি আরব? ◈ মাত্র ১৭০ টাকায় অনলাইনে এনআইডি বিক্রি! ◈ বাড়তি মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ◈ শেখ হাসিনার পক্ষের দাবি নাকচ, জুলাই অভ্যুত্থান প্রতিবেদনের পাশে জাতিসংঘ

প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:০৮ সকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েলপ্রীতি ছেড়ে আসলে তবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়ে নতুন এক শর্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ওয়াশিংটন সত্যিই ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়, তাহলে প্রথমেই তাদের ইসরায়েলপ্রীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপের নীতি থেকে সরে আসতে হবে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) তেহরানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এই বার্তা দেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র স্বভাবগতভাবে আগ্রাসী এবং তারা কখনোই আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছু মেনে নেয় না। তবু, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না—তবে কিছু শর্ত মানতে হবে তাদের।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও স্পষ্ট করল যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন।

তেহরানে বক্তৃতাকালে খামেনি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র জায়নপন্থিদের (ইসরায়েলের) প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে নেয়, এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন ইস্যুতে নাক গলানো বন্ধ করে—তাহলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের ব্যাপারটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে ইরানের সেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ—ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, যা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াচ্ছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির শাহ শাসন পতন এবং আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পরোক্ষ বিরোধ চলেছে টানা চার দশক ধরে।

বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বহুবার অভিযোগ করেছে যে, ইরানের এই কর্মসূচির আড়ালে রয়েছে সামরিক উদ্দেশ্য—যা তেহরান দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (JCPOA) কিছুটা সম্পর্কের বরফ গলালেও, ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি থেকে সরে আসা সম্পর্ককে আবারও তলানিতে ঠেলে দেয়।

এ বছর জুন মাসে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তেহরান অভিযোগ করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে ইরানের বৈজ্ঞানিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা আরও বেড়েছে।

এদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বহুবার জানিয়েছেন যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব বরাবরই মনে করে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছে—যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তথ্যসূত্র : এএফপি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়