শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ দুপুর
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৩:১১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়!

সায়েন্স অ্যালার্ট: পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালন করলে সিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে—বিড়াল সরাসরি মানুষের মানসিক রোগের কারণ। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য কেবল একটি সম্পর্ক বা সংযোগের ইঙ্গিত দেয়, কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। সূত্র: আজকের পত্রিকা

এই বিষয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘সিজোফ্রেনিয়া বুলেটিন’ সাময়িকীতে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথ রিসার্চের গবেষকেরা ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জন ম্যাকগ্রা। তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা গত ৪৪ বছরে ১১টি দেশে পরিচালিত গবেষণা বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বিস্তৃত অর্থে বিড়াল পালন এবং সিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের ভাষায়, বিভিন্ন প্রভাবক বিষয় সমন্বয় করার পর দেখা গেছে, যাঁরা বিড়ালের সংস্পর্শে এসেছেন তাঁদের সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ।

সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগ, যা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। রোগটির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রভাব এবং মস্তিষ্কে বিভিন্ন জৈবিক পরিবর্তনের সমন্বয়ে এ রোগের বিকাশ ঘটে।

বিড়াল পালন এবং সিজোফ্রেনিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের ধারণা নতুন নয়। ১৯৯৫ সালে প্রথম এক তত্ত্বে বলা হয়েছিল, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া কোনো সংক্রমণ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এরপর থেকে গবেষকেরা বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্কিত টক্সোপ্লাজমা গন্ডি (Toxoplasma gondii) নামের একটি পরজীবীকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন।

টক্সোপ্লাজমা গন্ডি সংক্রমিত বিড়ালের মলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস কিংবা দূষিত পানির মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, দেশটিতে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ এই পরজীবীতে আক্রান্ত। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

গবেষকেরা বলছেন, শরীরে প্রবেশ করার পর টক্সোপ্লাজমা গন্ডি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারে এবং নিউরোট্রান্সমিটার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। অতীতের বিভিন্ন গবেষণায় এই পরজীবীর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, মনোবৈকল্যজনিত উপসর্গ এবং সিজোফ্রেনিয়াসহ কিছু মস্তিষ্কজনিত রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ সম্পর্ক পাওয়া মানেই যে পরজীবীটিই এসব পরিবর্তনের কারণ, এমন প্রমাণ এখনো নেই। একইভাবে, কোনো সংক্রমণ বিড়াল থেকেই মানুষের শরীরে এসেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

শৈশবে বিড়ালের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কিছু গবেষণায় বিড়ালের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য এবং মনোবৈকল্যসদৃশ অভিজ্ঞতার স্কোর বেশি পাওয়া গেছে। তবে সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি। অনেক গবেষণায় এমন কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ১৭টি গবেষণার মধ্যে একটি গবেষণায় দেখা যায়, ১৩ বছর বয়সের আগে বিড়াল পালন এবং পরবর্তী জীবনে সিজোফ্রেনিয়ার মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই। কিন্তু একই গবেষণায় যখন বিড়াল পালনের সময়কাল ৯ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, তখন একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, এ থেকে বোঝা যায় যে বিড়ালের সংস্পর্শে আসার কোন সময়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত আরেকটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫৪ জন মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীকে নিয়ে কাজ করা হয়। সেখানে বিড়াল পালন এবং স্কিজোটাইপি স্কোরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে যাঁরা বিড়ালের কামড় খেয়েছিলেন, তাঁদের স্কোর অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল।

এ ছাড়া আরও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের কামড় এবং নির্দিষ্ট ধরনের মানসিক অভিজ্ঞতা পরিমাপের পরীক্ষায় উচ্চ স্কোরের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। ওই গবেষণাগুলোর লেখকেরা ধারণা দেন, এর পেছনে পাস্তুরেলা মাল্টোসিডা (Pasteurella multocida) নামের ব্যাকটেরিয়াসহ অন্য কোনো রোগজীবাণুও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে গবেষণাটির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ১৭টি গবেষণার মধ্যে ১৫টিই ছিল কেস-কন্ট্রোল ধরনের গবেষণা। এ ধরনের গবেষণা কোনো বিষয়ের কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক নিশ্চিত করতে পারে না। পাশাপাশি, অনেক ক্ষেত্রে এমন বিভিন্ন প্রভাবক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয় না, যা একই সঙ্গে বিড়ালের সংস্পর্শে আসা এবং মানসিক রোগের ঝুঁকির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেছেন, পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি গবেষণার মান তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলও পুরোপুরি একরকম নয়। তবে অপেক্ষাকৃত উচ্চমানের গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সমন্বয়বিহীন বিশ্লেষণে পাওয়া কিছু সম্পর্ক আসলে অন্য প্রভাবক উপাদানের কারণে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

সব মিলিয়ে গবেষকদের উপসংহার হলো, বিড়াল পালন এবং সিজোফ্রেনিয়া-সম্পর্কিত রোগের মধ্যে একটি সম্পর্কের পক্ষে কিছু প্রমাণ রয়েছে। তবে এই সম্পর্কের প্রকৃতি এবং এর পেছনের সম্ভাব্য কারণগুলো বোঝার জন্য আরও বড় পরিসরের, প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনাভিত্তিক এবং উচ্চমানের গবেষণা প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়