নিউইয়র্ক মেয়র মামদানির সঙ্গে জায়েদ খানের ভাইরাল পোস্টের রহস্য উন্মোচন
✖
ঢালিউড অভিনেতা জায়েদ খানের একটি রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। পোস্টারে দেখা যায়, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। ক্যাপশনে জায়েদের প্রশ্ন—‘আসলে কি হচ্ছে এটা?’—আর তাতেই ভক্তদের কৌতূহল পৌঁছে যায় চূড়ায়। পরে জানা যায়, এটি কোনো সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং একই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জায়েদ খান ও জোহরান মামদানি।
শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জায়েদ খান। তিনি জানান, ‘ইমিগ্র্যান্ট ডায়েরিজ এপিসোড-২’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। জন কবির ও সাদ আল আমীন পরিচালিত এই প্রজেক্টটি মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনসংগ্রাম, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত।
এর আগে গত মার্চে ‘ইমিগ্র্যান্ট ডায়েরিজ’-এর প্রথম পর্ব মুক্তি পেয়েছিল। সিরিজটির দ্বিতীয় পর্ব আগামী ২৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।
জায়েদ খান বলেন, ‘জোহরান মামদানি সরাসরি আমার সঙ্গে এই শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারা শুধু আমার ব্যক্তিগত গর্ব নয়, আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকারও গর্ব।’
মেয়র মামদানিকে এই প্রজেক্টে যুক্ত করার পেছনের গল্পও তুলে ধরেন তিনি। জায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ঠিকানা’র রুহিন হোসেন ও তাঁর সহধর্মিণী আনুভা শাহীন হোসেন প্রথমে মেয়রের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠান। সেখানে প্রজেক্টের বিস্তারিত তথ্যের পাশাপাশি জায়েদ খানের পরিচয়ও তুলে ধরা হয়। পরে মেয়রের কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হলে নির্ধারিত দিনেই শুটিং সম্পন্ন হয়।
জায়েদ খানের দাবি, বিশ্বজুড়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও শুটিং সেটে জোহরান মামদানি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ। তিনি পরিচালকের নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করেছেন এবং পুরো কাজটি বেশ উপভোগও করেছেন।
এর আগে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনও একই পোস্টার ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘সবাই জানেন, কে বড় তারকা... এবার দেখার পালা কে বড় অভিনেতা...।’ এরপর থেকেই পোস্টারটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
সব মিলিয়ে রহস্যের অবসান ঘটিয়ে এখন স্পষ্ট—একই ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে দুই ভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত মুখকে, আর সেই মিলন ঘটেছে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।