মনিরুল ইসলাম : কাল শুত্রুবার ৩ এপ্রিল। ২০১২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চালু করেছিল "জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস"। এবার এই দিবস পালন নিয়ে এফডিসিতে বইছে ঝড়ো হাওয়া। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এফডিসি। একদিকে এফডিসি প্রশাসন অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজস এসোসিয়েশন।
এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া জানান, আগামীকাল ৩ এপ্রিল জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। এটা সরকারিভাবে ঘোষিত। বর্তমান সরকার গত ১১ মার্চ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করেছে সেখানেও উল্লেখ রয়েছ এই দিবসটি পালনের। তাই এফডিসি ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে সকাল ১০ টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা অংশ নিবেন।
তবে তথ্যমন্ত্রী এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গেছে।
এই আয়োজনের এফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণ পত্র বিলি করা হয়েছে। এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এদিকে, এবিএম সোহেল রশিদ,
জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটি
সদস্য, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি
মহাসচিব, জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদের পক্ষে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে বয়কটের ডাক দিয়েছেন।যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের একটি গৌরবময় ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে রাজনীতির মূলা ঝুলিয়ে তথাকথিত দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের নামে ২০১২ সালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার চালু করেছিল "জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস"। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এই দিবস কি সত্যিই চলচ্চিত্রের জন্য? নাকি শেখ মুজিবুর রহমানের পূজার আরেকটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন? কী লাভ হলো চলচ্চিত্রের? চলচ্চিত্র শিল্প সংস্কৃতি খাদকদের খপ্পরে পড়ে আজ আইসিইউতে।
৩ এপ্রিল তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। শিল্পের নামে দিবস, কিন্তু ভেতরে শুধু এক পরিবারের মহিমাকীর্তন। এভাবেই বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, দিবস আর উৎসবকে ব্যবহার করা হয়েছে একটি দলের আদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে।
চলচ্চিত্র একটি স্বাধীন শিল্পমাধ্যম। এটি কোনো দলের সম্পত্তি নয়, কোনো পরিবারের উত্তরাধিকার নয়। চলচ্চিত্রের প্রকৃত সম্মান হোক শিল্পীদের মাধ্যমে, রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মোড়কে নয়।
তাই এই দিবসকে বয়কট করুন। রাজনৈতিক রং মেশানো প্রতিটি "দিবস"-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্র যখন একটি পরিবারের স্তুতিতে পরিণত হয়, তখন প্রতিবাদই হলো দেশপ্রেম। বয়কট করুন। প্রতিরোধ করুন।
এনিয়ে আবার মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে দু পক্ষ। এ অবস্থায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।