শিরোনাম
◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ০৯:১৯ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ড. ইউনূস আমলের ভিসিরা এখন কে কোথায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্যদের (ভিসি) পদত্যাগের যে ঢল নেমেছিল, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির নতুন পটপরিবর্তনের পর আবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্যরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।  

তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ভিসিরাও এখন একে একে পদত্যাগ করছেন এবং অনেককে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। পদত্যাগ ও অব্যাহতি পাওয়া এই ভিসিরা অনেকেই আবার তাদের পূর্বের নিজ নিজ কর্মস্থলে ও মূল পদে ফিরে গেছেন। অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান নিয়োগ পেয়েছেন ড. ইউনূসের বেসরকারি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে।  

পটভূমি: ২০২৪-এর আগস্টের পর গণপদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ  

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তৎকালীন সময়ে মবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাবিপ্রবি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।  

সরকার পতনের পরপরই অন্তত ১৩ জন ভিসি পদত্যাগ করেছিলেন, যার মধ্যে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব শূন্য পদে নিয়োগ দেয়।  

নির্বাচিত সরকার গঠন ও ঢাবি ভিসির পদত্যাগ 

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ মার্চ বিএনপি সরকার গঠন করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। নির্বাচিত সরকার গঠনের ১২ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর তাকে ড. ইউনূসের বেসরকারি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।  

একযোগে ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি ও মূল পদে যোগদান 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১১টি পাবলিক ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই দিন ওই ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া ভিসিদের নিজ নিজ মূল পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে তার আগের পদ পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট): উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে।  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি): ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি): ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। 

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি): ভিসি ড. মো. আতিয়ার রহমানকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি): ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইলকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর): ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দিয়ে তার মূল পদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) : অপরদিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল গত ১৬ মার্চ পদত্যাগ করেন। তিনি অবশ্য মূল পদে না ফিরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন। 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়