রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে আবারও দীর্ঘ লাইনের দেখা মিলছে। হঠাৎ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও গণপরিবহনের চালকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ও বরাদ্দসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) ও শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের সারি দেখা গেছে। দ্রুত সমাধান না হলে ঈদের পর ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ইরান যুদ্ধ চলাকালে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকেই সরকার অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে ডিপো থেকে প্রতিটি পাম্পকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই পরিমাণ তেল সংগ্রহের জন্য পাম্প মালিকদের ব্যাংকের মাধ্যমে পে-অর্ডার করতে হয়।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বরাদ্দের তথ্য সময়মতো না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সরবরাহে। শনিবার সকালেই রাজধানীর বেশ কয়েকটি পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়ে যায়।
এদিকে ঈদের ছুটি উপলক্ষে শনিবার ব্যাংক খোলা থাকায় ডিপোগুলো একসঙ্গে দুই দিনের বরাদ্দ দেয়নি বলেও জানা গেছে।
পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক জানান, শনিবার ব্যাংক খোলা থাকায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) ডিপো থেকে আগাম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সকালে বরাদ্দ পাওয়ার পর ব্যাংকিং প্রক্রিয়া শেষ করতে বেলা গড়িয়ে যায়। পরে ডিপো থেকে তেলের গাড়ি ছাড়তেও সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে তার নিজস্ব পাম্পেও কিছু সময়ের জন্য তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। তিনি জানান, ঈদের সময় পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তখন একই প্রক্রিয়ায় তেল দিলে মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন