শিরোনাম
◈ ইলিয়াস আলী গুম: ধলেশ্বরীতে লাশ ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত ◈ ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে তীব্র সতর্কতা ◈ ওয়ান-ইলেভেনের তিন কুশীলব ডিবি হেফাজতে: মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরোচ্ছে নতুন তথ্য ◈ জ্বালানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের ◈ দুই গোলে এগিয়ে থেকেও থাইল‌্যা‌ন্ডের কা‌ছে হারলো বাংলাদেশ নারী দল ◈ তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ◈ ওকে লাথি মেরে বের করে দিন: নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের ◈ বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি সংকটে প্রথমে ফুরিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ! ◈ শিশুশিল্পী লুবাবার বিয়ে আইনত বৈধ কি না, বাল্যবিবাহের দায়ে কী শাস্তি হতে পারে?

প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ দুপুর
আপডেট : ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২০৪০ সালের মধ্যে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনে নতুন রোডম্যাপ

মনজুর এ আজিজ : বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন এক বিনিয়োগ রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ ‘জ্বালানি সার্বভৌমত্ব’ অর্জন করতে পারবে এবং বৈশ্বিক বাজারের দামের ওঠানামা থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ‘শূন্য কৃষিজমি’ ব্যবহারভিত্তিক প্রাক্কলনের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মোট ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এতে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি কমবে।

গবেষকরা জানান, বৈদেশিক অনুদানের ওপর নির্ভরতা ক্রমেই কমে আসছে। এই বাস্তবতায় শুধু অনুদান নয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, মিশ্র অর্থায়ন এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের সমন্বয়ে কমিউনিটি পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে। গত সোমবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’ আয়োজিত ‘নির্ভরশীলতা থেকে সার্বভৌমত্ব: ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ রোডম্যাপ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণায় আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে করপোরেট ও বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের একটি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানির চাহিদা তিনগুণ বেড়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ গিগাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। এই চাহিদা মেটাতে সময়মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। গবেষণাটি আরও উল্লেখ করে, বর্তমানে দেশে প্রচলিত ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ভিত্তিক জ্বালানি মডেলটি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমায় পৌঁছে গেছে। ফলে বিকল্প ও টেকসই মডেলে দ্রুত রূপান্তর জরুরি। এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান। সহ-গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন এম. মোফাজ্জল হোসেন, সামিরা বাশার রোজা এবং কাজী কারিনা আরিফ। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে রূপান্তর নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় বিনিয়োগের প্রয়োজন, সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফলের একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নিচে প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো— গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে মোট ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিনিয়োগের পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা: এই বিনিয়োগকে দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে ৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় ধাপে, ২০৩১ থেকে ২০৪০ সময়কালে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। গবেষণায় বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের প্রতিটি ডলারের বিপরীতে প্রায় ১৭ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে। এই হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে জাতীয় অর্থনীতিতে মোট প্রায় ৫৫৭ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সুফল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গড় হিসেবে প্রতি বছর এই সুফলের পরিমাণ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২১,৫১৪ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি মূল খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানার ছাদ থেকে ১২,০৪৮ মেগাওয়াট, কৃষকদের জন্য সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩,৪৪২ মেগাওয়াট, এবং নদী ও জলাশয়ে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১,৭২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো উর্বর কৃষিজমি ব্যবহার করা হবে না। শিল্পভবনের ছাদ ও জলাধার ব্যবহার করে প্রায় ৬০,০০০ একর উর্বর জমি রক্ষা করা যাবে, যা নিশ্চিত করবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে না। এছাড়া ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের জন্য ৭.৮৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি দিনের বেলা উৎপন্ন সৌরবিদ্যুৎ সন্ধ্যার পিক আওয়ারের সময় ব্যবহারযোগ্য রাখতে সাহায্য করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর বার্ষিক ২০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমাতে সহায়ক হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তিতে প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি সমস্যাও সমাধান করবে। বিশেষভাবে বিকেন্দ্রীভূত মডেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, সেখানে স্থাপন করা হবে, যা প্রায় ৬০,০০০ একর গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজমি বাঁচাবে এবং প্রতিটি গ্রামে কমিউনিটি গ্রিডের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে শক্তি উৎপাদন নিশ্চিত করবে।

রোডম্যাপে তিনটি খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার শিল্পাঞ্চলে ছাদ ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমাবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে। কমিউনিটিকেন্দ্রিক সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজেলচালিত পানির পাম্পগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি হাবে রূপান্তরিত হবে, যা কৃষকদের সাশ্রয়ী পানি সরবরাহ করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি সম্ভব করবে। ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হ্রদ, জলাশয় ও খাল-পুকুরে প্যানেল বসানো হবে, যা জমি ব্যবহার ছাড়াই ৫-১০ শতাংশ বেশি কার্যকর বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

এ প্রসঙ্গে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী প্রধান এম. জাকির হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তর কোনো অর্থায়নের সমস্যা নয়। এটি কাঠামোগত সমস্যা, যা জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক দুর্নীতির উত্তরাধিকার। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আস্থা, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং জনহিতকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। সৌরশক্তি শুধু জলবায়ু প্রশমন নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল, পাহাড়ি, হাওর ও বাওর অঞ্চলের মানুষের জন্য অন্তত ৫০% অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়সঙ্গত দায়িত্ব। ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঋণভিত্তিক নয়, এটি বেসরকারি বিনিয়োগ, অনুদান এবং বাজারভিত্তিক আস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। বিদ্যমান উচ্চব্যয়কে পূর্ণ উৎপাদনশীলতায় রূপান্তর করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহিতা এবং প্রাকৃতিক অধিকারকেন্দ্রিক শাসন কাঠামো গ্রহণ জরুরি। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এক সময়ের প্রবৃদ্ধির চালক থেকে এখন জাতীয় আর্থিক অস্থিতিশীলতার উৎসে পরিণত হয়েছে। ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার ঐতিহ্যগত মডেল দেশকে ক্রমেই ‘জ্বালানি ঋণের ফাঁদে’ ফেলে দিচ্ছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের রোডম্যাপ উপস্থাপন করছে।

দেশ বর্তমানে জ্বালানির প্রায় ৫৬ শতাংশ আমদানি নির্ভর। ২০২৪ সালে মাত্র জ্বালানি আমদানি এবং ঋণ পরিশোধে খরচ হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০০৯ থেকে বৈদেশিক ঋণ ৩৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারে। সুদ পরিশোধে জাতীয় রাজস্বের এক-পঞ্চমাংশ খরচ হওয়ায় দেশ একটি স্থায়ী ‘জ্বালানি ঋণ ফাঁদে’ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি গ্যাস সংকটের কারণে ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে কারখানাগুলো সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশে কাজ করেছে। ২০২৫ সালে এলএনজি আমদানিতে খরচ হয়েছে ৩.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা দেশকে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের অপ্রত্যাশিত ওঠানামার প্রতি খুব সংবেদনশীল করে তোলে। বিশ্বের সপ্তম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর আর ‘ঐচ্ছিক’ নয়, এটি টিকে থাকার কৌশল। ব্যর্থ হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির ১.৩ শতাংশ স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। গবেষণা ও আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এই রূপান্তরকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক বলেন, জ্বালানি রূপান্তরকে আশাবাদ থেকে বাস্তববাদে নিয়ে আসতে হবে। কেন্দ্রীয় মডেল থেকে গ্রাম পর্যায়ের বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুতের দিকে যেতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজের ওভারল্যাপ দূর করতে হবে এবং প্রযুক্তি গ্রহণের চেয়ে কঠোর জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়েইস পারায়ে মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তর শুধুমাত্র বিদ্যুতের বিষয় নয়; এটি একটি সবুজ শিল্প বিপ্লব। এটি সফল করতে হলে অর্থায়নযোগ্য পাইপলাইন এবং আর্থিক উদ্ভাবন তৈরি করতে হবে, যা মিলিয়নকে বিলিয়নে উন্নীত করতে সক্ষম।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, আমদানিকৃত গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরতা বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মুখে ফেলে। প্রকৃত জ্বালানি সার্বভৌমত্বের জন্য দেশীয় সম্পদ সংগ্রহ এবং মাল্টি-বায়ার মার্কেটের দিক পরিবর্তন জরুরি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাহ বলেন, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব এখন আর সম্ভাবনা নয়, এটি জরুরি। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের গতিকে বজায় রাখতে আমাদের এখন কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আবু আলম উল্লেখ করেন, সবুজ অর্থায়নের ভিত্তি সুদৃঢ়। আমাদের কাঠামোগত ও অর্থায়ন সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে হবে এবং সোলার সেচ বড় আকারে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। ইডকলের সিইও আলমগীর মোর্শেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যিকভাবে নিশ্চিত, তবুও সামগ্রিক বিনিয়োগ এখনও কম। দেশীয় পুঁজি বাজার, বেসরকারি অংশগ্রহণ এবং বাজারভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে আমরা নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে পৌঁছাতে পারি।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য প্রস্তাবিত ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কেবল নতুন প্রযুক্তি স্থাপনের ব্যাপার নয়। এটি দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য ও স্থায়ী উন্নয়নের জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ। গবেষকরা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন। তারমধ্যে রয়েছে-রাষ্ট্রের ভূমিকাকে একক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী থেকে পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসা হবে। ফলে বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদক ও শিল্প গ্রাহক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং বাজারের সক্ষমতা বাড়বে।

সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারিং হাউস: কারিগরি অনুমোদন সহজ করতে একটি একক নিয়ন্ত্রক ইন্টারফেস প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি প্রক্রিয়াকে মানসম্মত করবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ব্যবহার করে ‘প্রবাসী গ্রিন ডায়াসপোরা বন্ড’ ইস্যু করার মাধ্যমে বিকল্প পুঁজি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষক সম্প্রদায়কে সৌর সেচ ব্যবস্থায় ঋণমুক্ত ইক্যুইটি প্রদানের জন্য ‘উৎপাদনশীল জাকাত’ তহবিল ব্যবহার করা হবে।

ফসিল ফুয়েল সানসেট ফিতে শিল্পকারখানার গ্যাস বিলের ওপর ধাপে ধাপে একটি শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে যে কারখানাগুলো ছাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করবে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে। সংগৃহীত রাজস্ব গ্রিন গ্রিড আপগ্রেডে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।

ভবিষ্যতে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ সীমিত করে সেই তহবিলগুলো দেশীয় নবায়নযোগ্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হবে। এটি দেশকে পরিবর্তনশীল জ্বালানি নির্ভরতা থেকে সরিয়ে স্থায়ী ও অবকাঠামোচালিত সম্পদের দিকে নিয়ে যাবে। এই রোডম্যাপ কেবল প্রযুক্তিগত প্রস্তাব নয়; এটি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করার একটি কৌশল। এতে স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ তার ভবিষ্যতকে শক্তিশালী ভিত্তিতে গড়ে তুলতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়