শিরোনাম
◈ প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরান সংকটে কূটনৈতিক তৎপরতা, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে অস্বস্তি জাতিসংঘে ◈ মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ শোলাকিয়ায় ঈদ: ছয় লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে অনন্য মিলনমেলা ◈ এবারের ঈদে চাঁদাবাজি কমেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: আইনমন্ত্রী ◈ জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ◈ ঈদের নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনায়’ জনস্রোত ◈ যেভাবে সঠিক নিয়মে পড়বেন ঈদের নামাজ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করল সুইজারল্যান্ড

প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৪ রাত
আপডেট : ২১ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হামলা-পাল্টা হামলায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল

ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে শুরু হয়েছে তীব্র উল্লম্ফন। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে, যেখানে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

একই সময়ে গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি যদি কোনোভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আল জাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অন্যান্য তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তেলের দামের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির অবস্থা ও তা কতদিন অচল থাকে তার ওপর।

অন্যদিকে কাতারের প্রধান গ্যাসক্ষেত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘটনায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ ন্যাচারাল গ্যাস মার্কেটে এক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ৭৪ ইউরোতে উঠে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে।

বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্ষেত্রগুলোর একটি রাস লাফানে হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এতে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্সে (২.২৯ ডলার) পৌঁছে যায়, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথ খুঁজছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না, তবে জ্বালানি সংকট তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে কার্বন ট্যাক্স কমানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদও দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়েও।  সূত্র: আল জাজিরা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়