নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এবং রমজানে যেন এলপিজির কোনো ঘাটতি না থাকে সেজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এলপিজির আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রণালয় ও বিইআরসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সভায় জ্বালানি বিভাগের সচিব, বিইআরসি এর চেয়ারম্যানসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আমদানিকারকরা জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসে এলপিজি আমদানির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। সে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে উপদেষ্টা তাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
সভায় আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিরূপ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমদানিকারকরা কেউ অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি করেছেন এরকম কোন অভিযোগ সঠিক নয়। তারা জানান, জানুয়ারি ২০২৬ মাসে তাদের দেয়া ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন এলপিজি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এলপিজির সংকট অনেকটা কেটে যাবে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা চলছে। ভ্যাট কমানোসহ কোন উদ্যোগেই কাছে আসছে না, সময়ের সঙ্গে সংকটের পাশাপাশি দামও বেড়েই চলছে বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কিছু পদক্ষেপ শুরু করলেও আবার পিছিয়ে এসেছে। যে কারণে দাম নিয়ে অরাজকতা বেড়েই চলছে। ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেক জায়গায় ১৯০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক জায়গায় বেশি দাম দিয়েও মিলছে না রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এলপিজি।
কিন্ত কেনো এই সংকট তা নিয়ে চলছে দোষ চাপানোর খেলা। খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ সংকট দেখলেও সরকারের দাবি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকারকরাও বলছেন সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপরও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বাজার।