শাহাজাদা এমরান,কুমিল্লা : কুমিল্লার পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু। তাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কুমিল্লার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী উদবাতুল বারী আবুকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে তিনি এক বছরের জন্য চেয়ারম্যান (দ্বিতীয় গ্রেডের পদমর্যাদা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উদবাতুল বারী আবু দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল পাস হওয়ার পর গত ২১ মে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নগর পরিকল্পনা, আবাসন উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের চাহিদা মোকাবিলায় এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় উদবাতুল বারী আবু বলেন, “এই দায়িত্ব আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে অনেক বড় একটি দায়িত্ব। কুমিল্লার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর ব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।
“কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব এবং বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। নগরীর যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, গোমতী নদী রক্ষা, আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব। কুমিল্লার উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা দলের বিষয় নয়; এটি পুরো জেলার মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার বিষয়। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।
“কুমিল্লার ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এমন একটি নগর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত সবুজায়ন এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।”
স্থানীয় নাগরিক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কুমিল্লা দেশের অন্যতম আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হওয়ার পথে নতুন গতি পাবে। নতুন এই কর্তৃপক্ষের যাত্রা এবং চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপগুলো এখন কুমিল্লাবাসীর বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।