হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে সরকারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান। তিনি বলেন, “আমাদের নির্বাচন হচ্ছে অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি নির্বাচন। এটি শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্বাচন। এখানে ভোট চুরির কোনো সুযোগ থাকবে না।”
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটের গাড়ি উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংস্কার, বিচার নিশ্চিত করা, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগ এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে। ভারসাম্য রক্ষার্থে আমরা সবাইকে নিয়ে ১১টি প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করেছি। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে জাতীয় পর্যায়ে চারটি প্রশ্নে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে, জনগণ ক্ষমতায়িত হবে, প্রশাসন জবাবদিহির আওতায় আসবে এবং কোনো একক দল আর একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।”
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “স্বৈরাশাসনের আমলে আমরা আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার সরে গেলেও তা ফ্যাসিবাদের রূপ নিয়ে আবার ফিরে এসেছিল। আমাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার পতন হয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাই সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান তালুকদার, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বদর উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফরিদপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. বাইজিদ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ভোটের গাড়ি প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।