শিরোনাম
◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ◈ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে অসন্তুোষ আইসিসির ◈ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে রেফারি সব ব্রাজিলের  ◈ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য : বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর
আপডেট : ২১ মে, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মা আমাকে জিন মারেনি, পাশের লোকেরাই আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে: রেহেনা বেগমের অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ‘জিনের কাজ’ বলে অপপ্রচার চালিয়ে মূল অপরাধ আড়াল করার চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে। মাধবপুর উপজেলার আদাঊর ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে মৌজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা আক্তার (১৪) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনার পর স্থানীয় একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এটি ‘জিনের মাধ্যমে খুন’ বলে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ভয়ভীতি ও কুসংস্কারের মাধ্যমে নিহতের পরিবারকেও এই গল্প বিশ্বাসে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।

নিহতের পরিবার ছিল চরম দরিদ্র। সুলতানার বাবা শহীদ মিয়া মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মা রেহেনা বেগম কন্যা হারানোর শোকে আজও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

রেহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি কখনোই জিনের গল্প বিশ্বাস করিনি। আমার মেয়ে স্বপ্নে এসে বারবার বলেছে— মা, আমাকে জিন মারেনি, পাশের লোকেরাই আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। সে আমাকে সাংবাদিকদের কাছে সত্য বলার অনুরোধ করেছে। 

জিনের অপপ্রচার বিষয়টি তৎকালীন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের নজরে এলে পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে মরদেহ পুনরায় পোস্টমর্টেম করায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য। পুলিশের মামলায় প্রতিবেশী দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মেলে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের হুমকি ও চাপের মুখে মামলাটি আর এগোয়নি। নিহত কিশোরীর মা-বাবাকে মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হন। ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো সুরাহা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আপোষনামা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো হয়রানির শিকার হয়ে নিহতের বাবা শহীদ মিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। হয়রানি মামলা হিসেবে এফআইআর নম্বর–১০৭ দায়ের হলে তিনি দীর্ঘদিন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়ে পলাতক জীবনযাপন করেন।

রেহেনা বেগম বলেন, আমরা মামলা করেই আজ ফেরারি। রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দেয়নি। তবুও আমরা ন্যায়বিচার চাই।

শহীদ মিয়া বলেন, মামলা করাই আমাদের জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজেই উল্টো মামলায় পলাতক ছিলাম। আমার মেয়ের বিচার রাষ্ট্র করতে পারেনি।

এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, হবিগঞ্জে এর চেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা আর হতে পারে না। ধর্ষণ ও হত্যাকে ‘জিনের কাজ’ বলে চালিয়ে দেওয়া এরপর ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো মামলায় হয়রানি—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা। বিষয়টি নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাধবপুর থানার ওসি মাহবুব খান জানান, বিষয়টি অনেক আগের। ভিকটিম পরিবারের কোন নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়