শিরোনাম
◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ◈ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে অসন্তুোষ আইসিসির

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট : ০৫ মে, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটে বিতর্ক সাজানো মামলার অভিযোগ, অবরুদ্ধ ১০ পরিবার চলাচলের পথ দখলের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ব্রক্ষগাতি কচুবুনিয়া বিল এলাকায় দায়ের করা একটি মারধর ও লুটপাটের মামলা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর প্রশ্ন ও ব্যাপক বিতর্ক। মামলাটিকে ঘিরে আসামিপক্ষ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ—ঘটনাটি মামলায় যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং এটি একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, যার মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দখল পাকাপোক্ত করা এবং এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে রাখা।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ১০০ বছর ধরে বসবাসরত অন্তত ১০টি পরিবার বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তাদের মূল সড়কে যাতায়াতের একমাত্র পথটি সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে হলেও অভিযোগ রয়েছে—সেই রাস্তা কেটে, ঘিরে ও ভরাট করে সেখানে ঘের নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পরিবারগুলো চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে ছোট শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। কোনো বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী বা শিশু অসুস্থ হলে বাঁশের ঝাঁপা বেঁধে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। ২০২৬ সালে এসেও এ ধরনের পরিস্থিতিকে স্থানীয়রা চরম অমানবিক ও সভ্যতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করছেন।

বাদীপক্ষ কমলেশ মন্ডলের দায়ের করা মামলার অভিযোগের সত্যতা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। মামলায় যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হলেও যাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—উজ্জ্বল কীর্তুনিয়া, তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার কোনো যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। এতে মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এছাড়া মামলার প্রধান আসামি হিসেবে যাকে উল্লেখ করা হয়েছে—উত্তম মন্ডল, তিনি একজন পেশাদার ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র একটি শাখায় কর্মরত। আসামিপক্ষের অভিযোগ, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও মানহানি করাই এই মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তারা আরও দাবি করেন, চলাচলের পথ নিয়ে কথা বললেই খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং একের পর এক মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ চিতলমারী থানায় দায়ের করা পাল্টা অভিযোগে উল্লেখ করেছে, সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী হাঁটার রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বাদীপক্ষ তাতে সম্মত হয়নি। বরং মামলাবাজির আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি খাস জমির ওপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা কি আদৌ আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? তারা অবিলম্বে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়