চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহরে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের প্রকোপে জবুথবু অবস্থা সাধারণ মানুষের। গত কয়েক দিন ধরে চলনবিল এলাকায় দেখা নেই সূর্যের। উত্তরের কনকনে হাওয়া শীতকে কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। অনেকে বলছেন- ‘জন্মের পর এমন শীত দেখিনি’।
এতে শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়েছে। স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শীত উপেক্ষা করেই যাচ্ছে স্কুলে। এতে অনেকেই ঠান্ডা ও ডায়রিয়া থেকে শুরু করে শীতজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রাস্তার পাশে অনেকেই খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পাবনা জেলায়। জেলার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাতাস কিছুটা কমলেও শীতের তীব্রতা রয়ে গেছে আগের দিনের মতোই। মঙ্গলবার ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সন্ধ্যার দিকে এ তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন উপজেলার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেকটাই কম। অতিরিক্ত শীতের কারণে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে কম আসছে বলে স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানান। হাটে-বাজারেও লোকজনের উপস্থিতি অনেকটাই কম। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। দুপুর গড়িয়ে গেলেও যানবাহনগুলো আলো জ্বালিয়ে যাতায়াত করছে। হাড়কাঁপানো শীতে পুরো এলাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
পঞ্চাশোর্ধ নিজাম উদ্দিন নামের এক ভ্যানচালক যুগান্তরকে বলেন, জন্মের পর এমন শীত দেখিনি। গাড়ি চালাতে গিয়ে হাত অবশ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে রক্ত জমে যাচ্ছে; কিন্তু কী করব, আয় না করলে খাব কী? পেটের দায়ে বাইরে বের হতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাস্তার পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের তাপ পোহানো কয়েকজন শিশু বলে- ‘ওরে শীত। শীতে জমে যাচ্ছি। কথা বলার সময় দাঁতের সঙ্গে দাঁত বাড়ি খাচ্ছে।’ স্কুলে যাওনি কেন এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতেই তারা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘শীত কমলে স্কুলে যাব।’ সূত্র: যুগান্তর