শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ২৯ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইতালি যাওয়ার সময় সাগরে নৌকাডুবিতে নিহত, সিরাজগঞ্জে নিহতের বাড়িতে শোকের মাতন

সোহাগ হাসান জয়, সিরাজগঞ্জ: ইটালিতে সাগর পথে অবৈধভাবে যাওয়ার সময় ভুমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিরাজগঞ্জের রাকিব হোসেন স্বাধীন (২৩) নামের এক তরুণের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবী, স্বাধীনকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় আবুল কালাম আজাদ অভিযুক্ত দালালকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্বজনেরা।

এদিকে, জীবিত না হোক মৃত ছেলের মরদেহ ফিরে পেতে নিহতের বাড়িতে স্বজনরা আহাজারি করছেন। আশপাশের লোকজন প্রতিনিয়ত ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রাকিব হোসেন স্বাধীন (২৩) উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভুতগাছা গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ফিরোজের ছেলে। অভিযুক্ত দালাল আবুল কালাম আজাদ একই উপজেলার পূর্নিমাগাঁতি ইউনিয়নের ঘিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা।

নিহত স্বাধীনের বাবা গোলাম কিবরিয়া ফিরোজ বলেন, অভিযুক্ত দালাল কামাল হোসেন আজাদের বড় ছেলে সাদ্দাম আগে থেকেই ইটালি থাকেন। এর মধ্যে তার ছোট ছেলে জাকারিয়ার সঙ্গে আমার ছেলে স্বাধীনকেও ইটালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। আমি রাজি হলে কালামের দুই মেয়ের জামাই (ঢাকায় অবস্থানরত) উল্লাপাড়ার বন্যাকান্দি গ্রামের ইউনুস আলী ও মধ্যবড়হর গ্রামের মোন্নাফ আলীর সঙ্গে কথা হয়। এরপর কালামকে আমি ২৫ লাখ টাকা দেই। চলতি বছরের ২২ মে আজাদের ছেলে জাকারিয়া ও আমার ছেলে স্বাধীন ইতালীর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করে।

ফিরোজ আরো বলেন, তাদের প্রথমে ভারতের চেংনাই, পরে দুবাই, শ্রীলংকা, মিশর ও সর্বশেষ লিবিয়া নিয়ে যায় স্বাধীনকে। এর মাঝে আমার ছেলে স্বাধীন আটক হয়েছে এবং কারাগারে আছে এমন কথা বলে দুই দফায় আরো ১০ লাখ টাকা নেয় দালাল কালাম। পাশাপাশি শ্রীংলকায় পৌছার পর তার ছেলে জাকারিয়াকে আমার ছেলের কাছ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়।

ফিরোজ বলেন, গত ১২ নভেম্বর ১২২ জনকে একটি ট্রলারে করে লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করে দালালরা। কিছুদুর যাওয়ার পর ট্রলারটি আংশিক ডুবে গেলে ট্রলারে থাকা ৯৭ জনকে মারধরের পর হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেয় তারা। বিষয়টি জানার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, নিহতদের মধ্যে আমার ছেলে স্বাধীনও রয়েছে। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে মাদারীপুরের ৭ জন গত ১৮ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন। ওই দিন বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের কাছ থেকে আমার ছেলে স্বাধীন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।

ফিরোজ বলেন, এ ঘটনার পর কালামকে অনেক বলেছি, আমার ছেলের লাশটা অন্তত এনে দেও। কিন্তু সে আমার কোন কথা শুনেনি। অনেকের সঙ্গে খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরো ২/৩ লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু ছেলের কোনো খোজ মেলেনি। পরে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নিজ বাড়ি থেকে দালাল কালামকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত দালালের স্বজনরা কেউ এ বিষয়ে দায়িত্ব না নেওয়ায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

নিহত স্বাধীনের ছবি বুকে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা নারগিস খাতুন বলেন, দালাল কালাম নিজেও ১৫ বছর ইতালিতে ছিল। আমার ছেলে এইচএসসি পাশ করে বিএ ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল। স্বাধীন ও কালামের ছোট ছেলে জাকারিয়া দুই জন বন্ধু ছিলো। দালালের বড় ছেলে সাদ্দাম এখনও ইতালিতে আছে। জাকারিয়াও ইটালি যাবে তাই ছেলেকে পাঠাতে রাজি হয়েছিলাম। ওরা আমার ছেলেকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। তার লাশও শেষবারের মতো দেখতে পারলাম না। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম বলেন, নিহতের স্বজনেরা অভিযুক্ত দালাল আবুল কালাম আজাদকে গত (২০ ডিসেম্বর) শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছেন। এঘটনায় রাতেই নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ফিরোজ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫/৭ জনের নামে মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন। আটক দালাল আবুল কালামকে আদালতে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়