শিরোনাম
◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি  ◈ হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তা ◈ ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফে অসন্তোষ, বিইআরসিকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মন্ত্রণালয়ের ◈ ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’, মায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বুয়েট অধ্যাপক ◈ কুমির সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি, মাজারের দিঘিতে ফেরত চাইলেন খাদেম ◈ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে ◈ ইরান অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা, আর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও ◈ স্বামী-সন্তান কানাডা প্রবাসী, সেই মিরপুরেই মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ ◈ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:০৭ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটে বিষমুক্ত বেগুন চাষে কৃষক মুরাদের বাজিমাত

এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ গ্রামের কৃষক মুরাদ হালদার প্রথমবার আধুনিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন। অর্গানিক বেগুন চাষে তার সাফল্য দেখে অভিভূত এলাকার মানুষ। মুরাদ হালদার উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের মৌভোগ গ্রামের একজন যুবক। ওই গ্রামে ছুনটের মোড় এলাকায় তার ছোট একটি সার ওষুধের দোকান রয়েছে। তিনি এবছর অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে অর্গানিক বেগুন চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনটি প্লটে ৫৫ কাঠা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চার জাতের বেগুন চাষ করেন তিনি। এতে তার খরচ পড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ১৮ কাঠার একটি বেগুন ক্ষেত থেকে তিনি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে গেলে তিনটি প্লটে থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। এ যেন প্রথমবারেই বাজিমাতের ঘটনা। মুরাদ হালদার বলেন, ‘‘বেগুন চাষ করে এত লাভ হবে, কখনো ভাবিনি। আগামীতে দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করব। সবচেয়ে বড় কথা, এই বেগুন অর্গানিক ও বিষমুক্ত। কারণ, বেগুনের জমিতে কোনো কীটনাশক ও রাসয়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি।

’’উপজেলার মৌভোগ গ্রামের কৃষক মুরাদ হালদারের একটি ১৮ কাঠার বেগুন ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মণ বেগুন ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে। ৯ জন শ্রমিক বেগুনগুলো আকার অনুযায়ী গ্রেডিং করে বস্তায় ভরছেন। ঢাকা ও মাদারীপুর থেকে ট্রাকযোগে ক্ষেতের পাশে পাইকার এসেছেন বেগুন কিনতে। আসে পাশের ক্ষেতে প্রতি কেজি বেগুনের পাইকারী দাম ৫০ টাকা হলেও এই বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। বিষমুক্ত অর্গানিক ফসল হওয়ায় খেতে সুস্বাদু, চাহিদা ও দাম বেশি বলে জানান পাইকার ইব্রাহীম শেখ। প্রতি ৫ থেকে ৭ দিন পর তিনি এই ক্ষেত থেকে ২৫ থেকে ৩০ মণ বেগুন তোলেন। বাকী দুটি ক্ষেতের উৎপাদন শুরু হলে সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ মণ বেগুণ পাবেন বলে জানান চাষী মুরাদ। মুরাদ হালদারের চাষকৃত বেগুন ক্ষেতগুলো পাশে ও উপর থেকে সুক্ষ্ম জাল দিয়ে ঘেরা রয়েছে যাতে সহজে পোকামাকড় ঢুকতে না পারে। তাছাড়া পোকা মাকড়ের প্রাকৃতিক বালাইনাশক হিসেবে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, কিউট্রাক ফাঁদ, ট্রাইকোডার্মা, স্টিকি ইয়োলো কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসয়নিক সারের বদলে জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করেছেন। মাটির আদ্রতা ধরে রাখতে ও আগাছার প্রকোপ কমাতে মাটিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করেছেন। ফলে সেচ খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসছে বলে জানান কৃষক মুরাদ হালদার। তিনি তার তিনটি ক্ষেতে ভারতের উচ্চফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ‘চক্র বিএন ৪২২’ জাত, হায়দারাবাদের ‘নবকিরণ’ জাত, উচ্চ মূল্যের ‘ভিএনআর ২১২’ জাত এবং গ্রীণবল জাতের বেগুন চাষ করেছেন। অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে এই জাতের বেগুন চারা রোপন করেছিলেন। এসব জাতের বেগুন আগাম ফসল ফলে এবং প্রতিটি গাছে দীর্ঘদিন বেগুন হয় বলে তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে জাত নির্বাচন করেছেন বলে জানান। এই কৃষকের সাফল্য দেখে আশে পাশের অনেক কৃষক তার বেগুন ক্ষেত দেখতে আসেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। আগামী মৌসূমে একই পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করবেন বলে জানান স্থানীয় চাষী রবিন হালদার, শাহজাহান শেখ সহ অনেকে। মুরাদ হালদারের সাফল্যে আবাক হয়ে তারা এখন ওই চাষীকে বেগুন মুরাদ বলে ডাকেন।

উপজেলার নলধা-মৌভোগ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাস বলেন, ‘‘প্রথমবার মুরাদ হালদার বেগুন চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শে সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক ও আর্গানিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করায় এ সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে কারিগরি সহযোগিতা ও নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।’’উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “চাষী মুরাদ হালদারের সাফল্য দেখে অনেকেই বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে চাষীদের সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়