মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি যেন এখন নিত্য দিনের সংবাদ। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই ইস্যু সাম্প্রতিক সময়ে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে কেবল মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্তেই গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ বাংলাদেশি। একই সময়ে সিলেট বিভাগে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়জনে। স্থানীয়দের ভাষায়— মৃত্যুর সংবাদ এখন আর নতুন নয়, বরং সীমান্তবাসীর জীবনে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
সর্বশেষ নিহত হন ২৫ বছরের শুকরাম উরাং। ৪ ডিসেম্বর সকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্তের নতুন বস্তি এলাকায় গরু চরাতে গিয়ে তিনি বিএসএফের গুলিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। কুলাউড়া থানার ওসি মোঃ ওমর ফারুক জানান, অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমান্তভাগে ঢুকে পড়লে বিএসএফ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গত এক বছরে একই সীমান্তে প্রাণ গেছে নবম শ্রেণির ছাত্র সাদ্দাম মিয়া, আহাদ আলীসহ আরও তিনজনের। গুলিতে আহত হয়ে ছিদ্দিক আলী এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি এবং তৈমুছ মিয়ার হাত পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দত্তগ্রাম সীমান্তে স্কুলছাত্রী স্বর্ণা দাস নিহত হয় এবং ২০২৫ সালের ৩১ মে সেখানে আবার প্রাণ হারান প্রদীপ বৈদ্য।
মৌলভীবাজার ছাড়াও সিলেটের অন্যান্য জেলার সীমান্তে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। কানাইঘাটে আব্দুর রহমান, সুনামগঞ্জের মাছিমপুরে সাইদুল ইসলাম, বাগানবাড়িতে শফিকুল ইসলাম ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে জহুর আলী নিহত হন বিএসএফের গুলিতে। স্থানীয় মানুষের দাবি— “ঘটনার পর প্রতিবাদ, নোট জারি—সব হয়, কিন্তু থামে না গুলি। পরদিনই আবার লাশ।”
মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, নিরস্ত্র মানুষকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ রোধে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ, কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান এবং সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, কড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত ছাড়া সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।
প্রশ্ন রয়ে যায়— আর কত মৃত্যু হলে নড়ে উঠবে সিদ্ধান্ত? আর কত পরিবার কাঁদলে থামবে সীমান্তের ট্রিগার? অপেক্ষায় সীমান্তবাসী— প্রতিদিন ভোর হয় শঙ্কা নিয়ে, রাত নামে অনিশ্চয়তায়।