শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে : সংসদে খাদ্যমন্ত্রী ◈ বজ্রপাত ও দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে সরকার : সংসদে ত্রাণমন্ত্রী ◈ আফগা‌নিস্তান নাজেহাল, একদিনেই দু’বার অলআউট করে ৩০০ রা‌নে টেস্ট জিতলো ভারত ◈ ‘অনেক হয়েছে, এবার শেষ করা যাক’: সরাসরি সম্প্রচারে মেজাজ হারালেন ট্রাম্প, সাক্ষাৎকার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ◈ বাজেট ২০২৬-২৭: উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেলে টিআইএন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ বাংলাদেশে ৪৮০০ জনকে প্রত্যাবাসনের দাবি, নতুন তথ্য দিলেন শুভেন্দু ◈ অবহেলা, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ◈ ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট: পাঁচ দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে উত্তোলন ৩৫০০ কোটি টাকা ◈ মামলা দায়েরের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার ◈ অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র, আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চরভদ্রাসন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী টেলিফোন, ডিজিটাল যুগের চাপে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম

চরভদ্রাসন এবং সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম—ল্যান্ডলাইন টেলিফোন। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন, মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশে ঐতিহ্যবাহী টেলিফোন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, একসময় চরভদ্রাসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সরকারি অফিসে ল্যান্ডলাইন ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সাধারণ মানুষের ঘরেও টেলিফোন লাইনের ব্যবহার ছিল বেশ প্রচলিত। কিন্তু গত এক দশকে লাইন নষ্ট হওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং টেলিযোগাযোগ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির আগ্রাসনে এসব লাইন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোবাইল ফোনের সুবিধা বাড়ায় ল্যান্ডলাইনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। আগে কোনো জরুরি খবরে বা দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিফোন বুথ বা ঘরের ল্যান্ডলাইন। এখন প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল থাকায় গ্রামাঞ্চলে ল্যান্ডলাইন ব্যবহারের আর প্রয়োজন দেখা যায় না।

টেলিফোন অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, পুরোনো কপার লাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে সংযোগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়াতে রক্ষণাবেক্ষণ করাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে ল্যান্ডলাইন সেবা একপ্রকার বন্ধের মুখে।

স্থানীয় সমাজবিদরা মনে করেন, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং চরভদ্রাসনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া। একসময় টেলিফোন বুথকে কেন্দ্র করে মানুষের আড্ডা, খবর বিনিময় কিংবা দূর-দূরান্তের যোগাযোগের যে স্মৃতি ছিল, তা এখন শুধুই অতীত।

প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবন সহজ করলেও, এর কারণে হারিয়ে যাচ্ছে কিছু মূল্যবান ইতিহাস ও স্মৃতি—চরভদ্রাসনের ঐতিহ্যবাহী টেলিফোন তারই একটি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়