শিরোনাম
◈ কাল শুরু হচ্ছে সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ◈ 'অনেক কষ্টে এসএসসি পাস করেছে' কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসককে নিয়ে আসিফের কড়া মন্তব্য; দিলেন বরাদ্দের ব্যাখ্যা ◈ তুরস্ক কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে? ◈ ট্রাম্পের জন্য ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’: জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ফেরত চায় ইরান ◈ বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাকান ফিদানের বৈঠক ◈ বিদ্যুৎ খাতে হযবরল, অলস সক্ষমতার বিপুল ভার মানুষের ওপর  ◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা

প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪৬ সকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বেচ্ছাশ্রমে দীঘিনালায় সংরক্ষিত ৭০০ একর বন, প্রাণ ফিরে পেয়েছে প্রকৃতি

পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় বিস্তীর্ণ বনানী থাকলেও বর্তমানে সেই বনভূমি আগের মতো নেই। অতিরিক্ত গাছ কাটার কারণে অনেক এলাকা বনশূন্য হয়ে পড়লেও বিভিন্ন স্থানের গ্রামবাসীরা এখনও স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের এলাকার বন রক্ষায় কাজ করছেন। এমনই একটি সংরক্ষিত বন হলো দীঘিনালার পাবলাখালী মৌজাবন, যার আয়তন প্রায় ৭০০ একর।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই মৌজাবন থেকে গাছ, বাঁশ কাটা, লাকড়ি সংগ্রহ বা পশু-পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ চুরির মাধ্যমে এসব করলে গ্রামের আইনে তাকে শাস্তি পেতে হয়। তারা মনে করেন, বন রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরও প্রয়োজন।

এই মৌজাবনে রয়েছে ৬টি ছড়া ও নালা, যার পানি চারপাশের জমিতে সেচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্জন, গামাঢ়ী, সিভিট, লম্বু, তেলসুর, চাপালিশ, বন জলপাই, উড়ি আম, হরতকি, বহেরা, খুদে জামসহ অসংখ্য বৃক্ষ রয়েছে এখানে। দেখা মেলে হরিণ, বনমোরগ, ভাল্লুক, বন্য শুকর, ময়না, টিয়া পাখিসহ বহু প্রজাতির প্রাণী।

পাড়াবাসীরা জানান, বন সংরক্ষণ করায় এর সুফল এখন তারা স্পষ্টভাবে পাচ্ছেন। বন থাকার কারণে ছড়া-নালাগুলো সচল আছে, ফলে কৃষিজমিতে সেচের পানি পাওয়া সহজ হচ্ছে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলাজুড়ে এমন পাড়াবনের সংখ্যা ৫৯টি।

পাবলাখালী এলাকার বাসিন্দা অজিত বরন চাকমা জানান, এই বন শুধু পরিবেশ রক্ষার নয়—জীবন ও জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পরিবেশ উপহার দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

দর্শনার্থী সাংবাদিক রুপায়ন তালুকদার বলেন, ‘বনের ভেতরের ঝর্ণা, ছড়া এবং গাছপালার সমারোহ সত্যিই মুগ্ধ করেছে। যেখানে অনেকেই ব্যক্তিগত লাভে বন উজাড় করছেন, সেখানে পাবলাখালীর মানুষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে বন রক্ষার কাজ করছেন।’

তিনি জানান, বন সংরক্ষণে ইউএনডিপি ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংহ্লামং চৌধুরী বলেন, ‘পাবলাখালী মৌজাবনটি আমি নিজে ঘুরে দেখেছি। এখানে অন্তত ৪টি বড় ছড়া, ঝর্ণা ও গিরিখাত রয়েছে। পানির প্রবাহ খুবই আশাব্যঞ্জক। মাতৃগাছও রয়েছে যা বন পুনর্জন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহায়তা অব্যাহত থাকলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনন্য সম্পদ হয়ে থাকবে।’

খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, জেলার বহু পাড়াবন বায়োডাইভার্সিটি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাবলাখালীর পাড়াবন বিশেষভাবে সমৃদ্ধ এবং সংরক্ষণে গ্রামবাসীরা অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি বলেন, ‘এই বনগুলো টিকিয়ে রাখতে পার্বত্য জেলা পরিষদ একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বন বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা সবসময় প্রস্তুত।’
 
স্থানীয়রা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে বনভূমি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু সুরক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগে নতুন বন সৃষ্টির দাবি জানান তারা।

সূত্র: সময় 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়