মনিরুল ইসলাম (বিশেষ সংবাদদাতা) ও জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন,একজন ইসলামী দলের নেতা গতকাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। একটি দলের নায়েবে আমীর, অর্থাৎ দায়িত্বশীল ব্যক্তি কিভাবে বলতে পারেন ‘নো হাংকি পাংকি’? এটা কি রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে? জনগণ কি এটা গ্রহণ করবে? রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে তা উপহাস ও অবজ্ঞা ছাড়া কিছু নয়। রাজনীতি অভিজ্ঞতার বিষয়। আমি ভেবেছিলাম, তিনি যেহেতু দায়িত্বে আছেন, ছাত্র রাজনীতি করেছেন, আবার ডাক্তারও, তাই ভেবেছিলাম তিনি পরিমিত ও দায়িত্বশীলভাবে কথা বলবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা দেখতে পাইনি।
তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন হবে এটা স্বাভাবিক। সেখানে পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকবেই। সেটাই তো রাজনৈতিক আদর্শের মূল ভিত্তি। কিন্তু আমি মনে করি, কোনো রাজনৈতিক আদর্শে ‘নো হাংকি পাংকি’ থাকতে পারে না। আমরা যে ভাষায় চলি, যে ভাষায় কথা বলি, সেই ভাষাতেই আমাদের নিজেদের আদর্শ প্রকাশ করা উচিত।
শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিকদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের মন বুঝি। আমরা গ্রামে যাই, ঘরে ঘরে যাই। বিএনপি হলো সাধারণ মানুষের দল, গণমানুষের দল, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া দল। সহজ-সরল রাজনীতি কোনো জটিলতা নেই। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ছাত্র রাজনীতি করেছি, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। রাজনীতি শিখেছি, শিখিয়েছি। গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে রাজনীতি কিভাবে করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। কিন্তু গতকাল জামায়াতে ইসলামীর ওই বক্তব্য আমাদের ভালো লাগেনি, একদমই পছন্দ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক পরিবারে যান, ঘরে ঘরে মা-বোনদের সালাম দিন। বেগম খালেদা জিয়ার সালাম দিন, তারেক রহমানের সালাম দিন, ধানের শীষের সালাম দিন, আমার সালাম দিন। বিএনপি করি আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলন, লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান আছে।
জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহবায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া, জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলীম হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাহবুব আলম মামুন প্রমুখ।
এদিকে, বিকালে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু।
আলোচনা সভায় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে আমি আজ যাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবো তিনি হচ্ছেন স্বাধীনতার ঘোষক, আমাদের যে রাজনীতির দর্শন দিয়েছেন বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। তার নেতৃত্বে এ দিনেই বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। দেশের মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বাক স্বাধীনতা ফিরে পায়। সিপাহী- জনতা এক সাথে মিলেমিশে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে। দুর্নীতি, দুঃশাসন থেকে মুক্তি পায়।
তিনি বলেন, ২৪ এর ৫ আগষ্টের চেয়ে ৭৫ এর ৭ নভেম্বর দেশের মানুষ বেশি খুশী হয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে দুঃশাসনকালের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। আমি তখন জেলে ছিলাম। আপনারা যে আনন্দ নিয়ে রাস্তায়, পথে ঘাটে বের হয়েছিলেন তার চেয়ে বেশি আনন্দ ছিলো ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে।