রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক পেশায় একজন কসাই। ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি কোরবানির পশুর মাংস কাটার কাজ করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে গরুর মাংস কাটার একপর্যায়ে হাত থেকে চাপাতি ছিটকে গিয়ে তার বাম হাঁটুতে লাগে। এতে হাঁটু কেটে রক্তাক্ত হলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুধু ওমর ফারুকই নন, পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীতে পশু কোরবানি ও মাংস কাটাকাটির সময় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক মানুষ। গরুর গুঁতা, লাথি, ছুরি ও চাপাতির আঘাতে আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুধু রাজধানীতেই আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন পশু কোরবানির সময় আহত হয়ে ৫০ জন আগারগাঁওয়ের পঙ্গু হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিকেলে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডগুলোতে আহত রোগীদের ভিড়। কারও হাত, কারও পা, আবার কারও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে গেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনান্দ হালদার। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আজ ঈদের দিন সকাল থেকে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৫০ জন রোগী এসেছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কেউ ছুরি বা চাপাতির আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার কেউ পশুর গুঁতা বা লাথিতে কাঁধ ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন। তাদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় কোরবানি দিতে গিয়ে ও মাংস কাটাকাটি করার সময় আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকেও চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৮০ জন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গরুর গুঁতা, লাথি ও ছুরির আঘাতে আহত হয়ে এসব ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ঈদের নামাজ শেষে রাজধানীবাসী পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যদিও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের নির্দেশনা দিয়েছিল। তবুও নগরীর বিভিন্ন অলিগলি, সড়কের পাশ ও বাসাবাড়ির নিচে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।