শিরোনাম
◈ শুধু মাতৃভূমি নয়, বিশ্বশান্তির জন্যও কাজ করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ব্যভিচার ও প্রতারণার মামলায় খালাস পেলেন নাসির হোসেন ও তামিমা ◈ এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে নতুন শাস্তির বিধান ◈ প্রতিবাদ: বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানী খে‌লোয়াড়‌দের জার্সিতে লেখা #168! লজ্জায় মুখ ঢাকবে আমেরিকা  ◈ বাজেটে স্বস্তি ও চ্যালেঞ্জ দুটোই, করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩.৭৫ লাখ টাকা ◈ ময়মনসিংহে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ ◈ বিশ্বকা‌পের শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে আইসল‌্যান্ড‌কে ৩-০ গো‌লে হারা‌লো আ‌র্জেন্টিনা, মাঠে ফি‌রেই মেসির গোল ◈ বাজুসের নতুন ঘোষণা, দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম ◈ 'এই সময়' কে দেয়া সাক্ষা‌তকা‌রের দ্বিতীয় পর্ব-- টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাবো বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি: শেখ হা‌সিনা ◈ লাল টেলিফোনের পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি, নিরাপত্তা সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভবন

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০৭ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিশুকে নিয়ে অনলাইন পোস্টের আগে ভাবুন: ‘শেয়ারেন্টিং’ থেকে কিডফ্লুয়েন্সিংয়ের অন্ধকার দিক

ডিজিটাল যুগে একটি শিশুর জীবন শুরু হওয়ার আগেই তার অনলাইন উপস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। মা-বাবারা গর্ভাবস্থার সোনোগ্রাম থেকে শুরু করে জন্মের পরপরই নবজাতকের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে অন্তত একজনের জন্মের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিতি তৈরি হয়ে যায়। পেরেন্টিং-এর আদলে এই প্রবণতার একটি নামও দাঁড়িয়ে গেছে—‘শেয়ারেন্টিং’।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি এখানেই থেমে থাকে না। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়ার তারকায় পরিণত করছেন, যাদের বলা হয় ‘কিডফ্লুয়েন্সার’। প্রথম কথা বলা কিংবা হাঁটার মতো শিশুর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত—এমনকি ব্যক্তিগত সংকটের সময়টিকেও ক্যামেরায় ধারণ করে লাখো মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সাংবাদিক ফোর্টেসা লতিফি তাঁর নতুন বই ‘লাইক, ফলো, সাবস্ক্রাইব’-এ এই শিল্পের অন্তর্নিহিত দিকটি তুলে ধরেছেন।

লাতিফি দেখিয়েছেন—কিডফ্লুয়েন্সিং এখন বহু বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রায়ই অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো একটি স্পন্সরড পোস্টের জন্য ২ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারে এবং বছরে ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার উপার্জনও অস্বাভাবিক নয়। এখানে শিশুর দৈনন্দিন কাজগুলো বিজ্ঞাপনের অংশ হয়ে উঠছে।


এই শিল্পে অনেক শিশু অভিনেতা বা মডেল হিসেবে পরিচিতি পেলেও তাদের আইনি সুরক্ষার দিক থেকে বড় ফাঁক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে শিশুদের উপার্জনের একটি অংশ তাদের জন্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুদের নিয়ে কনটেন্ট নির্মাণের সময় তাদের সম্মতির বিষয়গুলো পুরোপুরি অভিভাবকদের হাতে থাকে।

অবশ্য কিছু শিশু এই খ্যাতি ও অর্থ থেকে উপকৃতও হয়েছে। যেমন—রায়ান কাজি মাত্র তিন বছর বয়সেই খেলনার রিভিউ করে জনপ্রিয় হন এবং বর্তমানে তার ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার ৪ কোটিরও বেশি। ২০২৫ সালে তিনি প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।

তবে এই উজ্জ্বল দিকের পাশাপাশি ভয়াবহ বাস্তবতাও রয়েছে। লাতিফি এমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছেন, যেখানে শিশুদের কষ্ট বা আঘাত পাওয়া ভিডিওই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে, এক বাবা তাঁর সন্তানের খিঁচুনি হওয়ার সময়ও ভিডিও করা বন্ধ করেননি। এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—অভিভাবকের প্রথম দায়িত্ব কি সন্তানের সুরক্ষা, নাকি কনটেন্ট তৈরি?

এই প্রবণতা এখন আরও এক অদ্ভুত দিকে মোড় নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভিউ ও ব্র্যান্ড ডিলের আশায় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তও প্রভাবিত হচ্ছে। শিশুদের নিয়ে তৈরি কনটেন্ট—বিশেষ করে গর্ভাবস্থা বা নবজাতক সংক্রান্ত ভিডিও বেশি জনপ্রিয় হওয়ায় এটি একটি লাভজনক বাজারে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া পারিবারিক জীবনের অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী দিকও দর্শকদের আকৃষ্ট করে। যেমন—কারিসা কলিন্স তাঁর ১১ সন্তানের পরিবার নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। আবার কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীও শিশুদের ব্যবহার করে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছে।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো শিশুদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা। শৈশবে পারিবারিক ভ্লগের অংশ ছিলেন বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী শ্যারি ফ্র্যাংকি। ২০২৪ সালে তাঁর মা রুবি ফ্র্যাংকির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়। এই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শ্যারি ফ্র্যাংকি জানিয়েছিলেন, পারিবারিক ভ্লগের অভিজ্ঞতা তাঁর শৈশবকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো অর্থই শৈশবকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষতি পূরণ করতে পারে না।’ এরপরই মূলত ২০২৫ সালে ইউটা অঙ্গরাজ্যে শিশু ইনফ্লুয়েন্সারদের সুরক্ষায় নতুন আইন পাস হয়।

ইন্টারনেটের আরেকটি অন্ধকার দিক হলো অনলাইন শিকারি বা প্রিডেটরদের উপস্থিতি। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর ভিডিও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি কিছু কিডফ্লুয়েন্সারকে বাস্তব জীবনেও অনুসরণ করা হচ্ছে।

সবশেষে বলা যায়—কিডফ্লুয়েন্সিং একটি লাভজনক কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ জগৎ। তাই একটি ‘কিউট’ ছবি পোস্টের আগে কোনো অভিভাবকের ভেবে দেখা উচিত এর মাধ্যমে তাঁর সন্তানের গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ কতটা ঝুঁকিতে পড়ছে। দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়