শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই, ২০২২, ০৩:৫১ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুলাই, ২০২২, ০৭:২১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্রেতা-বিক্রেতারা: ডা. আব্দুল্লাহ

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

শাহীন খন্দকার: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, ‘লাম্পি স্কিন’ রোগটি প্রতিরোধে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠে আছেন। আক্রান্ত পশুগুলোর রোগ প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

ডা. শাহজাদা বলেন, বৃষ্টি ও বর্ষা কমে গেলে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আক্রান্ত পশুও সুস্থ হয়ে উঠবে। দেশে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ প্রথম দেখা গেছে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে। এ রোগটি সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে মশা-মাছির বিস্তারের সময় ব্যাপক আকার ধারণ করে। 

এ রোগে আক্রান্ত পশু মারা যাওয়ার হার ১-৩ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ধর্মীয় অনুসারে সুস্থ পশু দিয়ে কোরবানির বিধান থাকায় এ ধরনের পশু অনেকেই কিনতে চাইবেন না। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লাম্পি স্কিন রোগটি নিয়ে বর্তমানে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। রোগটি নিয়ন্ত্রিত করা না গেলে গরুর দাম বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে চামড়া সংকট দেখা দিবে। লাম্পি স্কিন গরুর ভাইরাসজনিত একটি চর্মরোগ, যা মশা-মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। দেশে এ পর্যন্ত কতো সংখ্যক গবাদি পশু লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত সে হিসাব এখনও চুড়ান্ত করতে পারেনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ৫০ জেলায় অন্তত তিন লাখ গবাদি পশু এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সারা দেশে এ রোগ সম্পর্কে খামারি ও কৃষকদের সচেতন করতে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এক কোটি টিকা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পর্যন্ত যতটুকু প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে এই রোগ গরু-মহিষ থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায় না। তবে গরু ও মহিষের পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়ার শরীরে রোগটি ছড়াচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। 

লাম্পি স্কিন রোগটি এরইমধ্যে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপ, চীন ও ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে রোগটি ভারত ও চীন থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব বলেন, মূলত ভারত ও মিয়ানমার থেকে এ রোগটি দেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সাবধান হওয়ার পরামর্শ দিলেন  সচিব। এই রোগের লক্ষণ দেখা মাত্রই স্থানীয় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর অথবা ভেটেরিনারি সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায়, আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি গরু মারা গেছে খুলনায়। সেখানে এ পর্যন্ত ৬২টি গরু মারা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২২, ঢাকায় ৭, রাজশাহীতে ১৩ ও বরিশালে ১টি গরু মারা গেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে খামারিদের এবং কোরবাণীর হাটে রোগটি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেবে গরুর খামার এলাকাটি মশামাছিমুক্ত রাখা এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে আক্রান্ত গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। সম্পাদনা: মাজহারুল ইসলাম

  • সর্বশেষ