মনিরুল ইসলাম : হয়ে গেলো ' ঢাকাইয়া দেবদাস' সিনেমা শুভ মহরত।৷ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক শরৎ চন্দ্রের কালজয়ী ‘দেবদাস’কে ঢাকাইয়া তরুণের রূপে পর্দায় আনছেন ব্যতিত্রুমধর্মী চলচ্চিত্রনির্মাতা জাহিদ হোসেন। শরৎ চন্দ্রের সৃষ্টি দেবদাসকে ঢাকাইয়া তরুণের রূপে পর্দায় আনছেন চলচ্চিত্রনির্মাতা জাহিদ হোসেন।
কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক শরৎ চন্দ্রের কালজয়ী ‘দেবদাস’ বিয়োগান্ত প্রেমকাহিনীর এক জননন্দিত উপাখ্যান। চাষী নজরুল ইসলামের নির্মাণশৈলীতে পর্দায় ভিন্নরূপে উপস্থাপিত হয় দেবদাস। ঢালিউডের সেই দেবদাসের আধুনিক ভার্সন নির্মাণ করে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন বলিউডের গুণী নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি।
এবার বাংলাদেশে নতুন করে শরৎ চন্দ্রের সৃষ্টি দেবদাসকে ঢাকাইয়া তরুণের রূপে পর্দায় আনছেন চলচ্চিত্রনির্মাতা জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার ঢাকার গুলশানের একটি ক্লাবে মহরতের মাধ্যমে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সিনেমাটির পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
নির্মিতব্য এ চলচ্চিত্রটির বিষয়ে পরিচালক জাহিদ হোসেন বলেন, পুরান ঢাকার আদি সংস্কৃতির সঙ্গে চিরন্তন প্রেমের গল্পে ভিন্নরূপ পাবে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’।
তিনি বলেন,সাহিত্যের নন্দিত এ চরিত্রের সঙ্গে ঢাকাইয়া সংস্কৃতির মিশেলে সিনেমাটি গতানুগতিকের বাইরে ভিন্নরূপ পাবে।
পুরান ঢাকার খাবার, পঞ্চায়েত প্রথা, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ছবিটিতে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। ঢাকাইয়া ভাষায় নির্মিতব্য সিনেমাটি চলচ্চিত্রের এ দুঃসময়ে আশার আলো হয়ে দেখা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব সম্প্রদায়ের উৎসব তুলে ধরা হবে জানিয়ে পরিচালক বলেন, আমাদের সুন্নি, শিয়া, মুজাহেদ, আল হাদিসী, কাদিয়ানী, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব জাতির মানুষই বসবাস করে। তাদের এই আচার, ধর্মানুষ্ঠান আমার সিনেমায় তুলে ধরা হবে।
পরিচালক আরও জানান, সিনেমাটিট শুটিং আগামী বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারীর ১২ তারিখ থেকে পুরনো ঢাকা ঐতিহ্যের অনুষ্ঠান সাকরাইন উৎসবকে কেন্দ্র করে শুরু হবে।
মহরত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ঢাকা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আজিম বক্স, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ, প্রযোজক জাহাঙ্গীর শিকদার, চিত্রনায়ক আদর আজাদ, চিত্র নায়িকা বুবলী।
সিনেমাটির নাম ভূমিকায় থাকা চিত্র নায়িকা বুবলী বলেন, ‘এ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। ঢাকাইয়া নাম শুনেই মনে হচ্ছে ঐতিহ্যের ভালো কিছু হবে।ভিন্ন কিছু করার সুযোগ রয়েছে। ছবিটিতে দর্শকরা আমাকে ভিন্নভাবে আবিষ্কার করবে।
চিত্রনায়ক আদর আজাদ বলেন, ‘গল্পে কিছু মজার জায়গা আছে বলেই সিনেমাটির সঙ্গে আমার পথচলা। এমন ঐতিহাসিক কাহিনীর গল্পের ছবিতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রযোজককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে পথচলার সঙ্গী হতে পেরে আমি গর্বিত।