শিরোনাম
◈ বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে খর্ব শক্তির দল নয়, স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই‌য়ে নতুন‌দের নেয়া হ‌য়ে‌ছে: নিউজিল্যান্ড কোচ ◈ ক্রিশ্চিয়া‌নো রোনাল‌দো এখ‌নো পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ  ◈ কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড ◈ কুনারে পাকিস্তানের রকেট হামলা, ৯ হাজারের বেশি পরিবার ঘরছাড়া ◈ ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ◈ জ্বালানি অনিশ্চয়তায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছে কারখানাগুলো, সক্ষমতা ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে ◈ ২০৩০ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর ৫% কার্বন কর আরোপ করবে ইইউ ◈ ব্যাংকঋণে শীর্ষে সরকার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার খাতে বাড়বে ভর্তুকি ◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব

প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫২ বিকাল
আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

‘নলকূপ বসাতে গেলেই বেরিয়ে আসছে গ্যাস’

মনজুর এ আজিজ : নলকূপ বসানোর জন্য খনন করতে গেলেই বেরিয়ে আসছে গ্যাস। আর সেই গ্যাস দিয়েই বিনা খরচে প্রতিদিনের রান্নার কাজ সারছেন স্থানীয়রা। অবিশ্বাস্য শোনালেও ঘটনাটি একেবারে বাস্তব, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কয়েকটি গ্রামের পুরো এলাকাজুড়ে নলকূপের পানি আর আগুনের এই অদ্ভুত মিশ্রণ এখন সাধারণ দৃশ্য হয়ে উঠেছে। এতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, তাহলে কি গ্যাসের ওপর ভাসছে দেশ? তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না। এটা অপচয়, এটা বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

জানা গেছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব গ্রামের শত শত টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। সেই গ্যাস দিয়েই গৃহিণীরা রান্নার কাজ করছেন। এতে তাদের কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না। অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার এ সুবিধা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনেও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় টিউবওয়েল থেকে উঠে আসা গ্যাসের ব্যবহার দেখা গেছে। কেউ টিউবওয়েল থেকে পাইপলাইন টেনে রান্না করছেন, আবার কেউ সেই গ্যাসের সংযোগ দিয়ে আয় করছেন টাকা। একেকটি টিউবওয়েল থেকে গড়ে চার-পাঁচটি লাইন টানা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। সেই গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের গ্রামগুলো এখন যেন গ্যাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কাচিয়া, টবগী ও হাসাননগরসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামে নলকূপ খনন করলেই মিলছে গ্যাস। ফলে কোনো সরকারি সংযোগ ছাড়াই গ্যাস ও পানি ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয়রা ‘ফ্রি গ্যাস’ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের এখানে টিউবওয়েল খনন করলেই গ্যাস বেরিয়ে আসে। সেই গ্যাস আমরা রান্নার কাজে ব্যবহার করি। আমাদের মতো অনেক পরিবারই এভাবে গ্যাস ব্যবহার করছে। গ্যাস ব্যবহার করতে আমাদের কোনো টাকা লাগে না। আমরা বিনা পয়সায় গ্যাস আর পানি দুটোই ব্যবহার করছি। তবে এসব সংযোগে অব্যবস্থাপনা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও সেই গ্যাস ব্যবহার করে এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি ছোট কারখানাও। দিনের পর দিন এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হলেও যেন কারও মাথাব্যথা নেই। ফলে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

দেখা গেছে, ভূগর্ভের প্রায় ৯০০ ফুট নিচ থেকে পানি উঠছে, সঙ্গে উঠছে গ্যাসও। অনেকেই সেই টিউবওয়েলে ড্রাম, কম্প্রেসার ও সিলিন্ডার বসিয়ে বিনা খরচেই রান্নার চুলায় গ্যাস ব্যবহার করছেন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান-উজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) জানিয়েছে, এগুলো পকেট গ্যাস। তাই লোকজন ব্যবহার করছে। তবে বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। বিনা অনুমতিতে গ্যাস ব্যবহার মোটেও ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, ভোলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। এখান থেকে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়