শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৬:২৮ বিকাল
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ০৬:২৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ম্যাগনেট-পিলার বিক্রিচক্রের কবলে পড়ে কোটি টাকা খোয়ালেন সাবেক সংসদ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: [২] চক্রটি আমেরিকান এন্টিক দ্রব্যের ব্যবসায়ী, মাড়োয়ারী সাজিয়ে দেশের উঠতি বড়লোক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, শিল্পপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যকে টার্গেট করে প্রতারণা করছিল। 

[৩] সম্প্রতি এক সাবেক সংসদ সদস্যকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি রমনা বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. মিজানুর রহমান মজনু (৪৫), মো. আক্তারুজ্জামান ওরুফে তাহেরুল ইসলাম (৫৮) মো. জসিম (৩৫) ও ইব্রাহিম ব্যাপারি (৩৫)। 

[৪] তাদের কাছ থেকে একটি কথিত ব্রিটিশ সীমানা পিলার (ম্যাগনেট পিলার), ৪টি কথিত প্রাচীন কয়েন, নগদ ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ৪টি মোবাইল ফোন, ১টি চুক্তিপত্র, চেক, ভুয়া ভিজিটিং কার্ড এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।

[৫] ডিবি জানায়, সোমবার রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য  জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারণার জন্য চক্রটির  চার-পাঁচটি গ্রুপ থাকে। তাদের একটি গ্রুপ আমেরিকায় বড় ব্যবসী, চাকরিজীবী মাড়োয়ারি বলে পরিচয় দেয়। আরেকটি গ্রুপ কৃষক সেজে দেখায় আমি আমার গ্রামের পুকুর খনন করতে গিয়ে এই এন্টিক জিনিসটা পেয়েছি। ভুক্তভোগী ব্যাক্তিদের রাজধানীর সবচেয়ে দামি হোটেলে বসিয়ে মিটিং করত। মার্কিন ব্যবসায়ী ও মাড়োয়ারি সেজে  ভালো ড্রেস পড়ে, দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে আসত। সঙ্গে দুইজন বডিগার্ড থাকতো। গলায় স্বর্ণের হার, হাতে স্বর্ণ। যার সবই ভাড়া করা। এভাবেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত।

[৬] গ্রেপ্তার তাহেরুল ইসলাম পরিচয় দেয় সে আমেরিকার হেরিটেজ অকশন নামে এক কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর। তার দামী গাড়ি, স্মার্ট বেশ দেখে ভুক্তভোগীরা তাকে বিশ্বাস করেন। তাহেরুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে বলত এন্টিক ২৫০ কোটা টাকায় কিনে আমেরিকা সেটা বিক্রি করবেন ৫০০ কোটি টাকা। দামাদামি করার পর ভুক্তভোগী রাজি হন। তখন নগদ ৩৫ কোটি টাকার চুক্তি হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা নগদ দেন। বাকি ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চেকে নেয়। এরপর কথিত ম্যাগনেট পিলার ভুক্তভোগীকে দেয়া হয়। সেটি নিয়ে বের হওয়ার সময়ে চক্রের আরেকটি দল পিলারটি ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন। পরে অভিযোগ দিলে ডিবি রমনা বিভাগে তদন্ত করে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

[৭]হারুন অর রশীদ আরও বলেন, আমরা প্রায়ই সময় মানুষজনদের সতর্ক করি। এসব এন্টিক পিলার দেখিয়ে বড় বড় সরকারি সাবেক কর্মকর্তাদের টার্গেট করে,  উঠতি শিল্পপতিদের টার্গেট করে প্রতারকরা  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। লোভে পড়ে এমন ফাঁদে পা না দিতে সবাই সতর্ক থাকার অনুরোধ করবো। 

[৮] ডিবি প্রধান বলেন, ওই যে মাড়োয়ারী যখন সবাইকে ধরলাম দেখা গেল একজন রিক্সা চালায়, তাহেরুলের দুইজন স্ত্রী আছে, পাশাপাশি চার নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত,  এই টাকা তাদের পেছনে খরচ করেছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ সাড়ে তিন কোটি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।  এই টাকা দিয়ে জমি কেনে, এফডিআর করে। প্রতারকরা জানায়, টাকাগুলো নেওয়ার পর তারা দেড় দুই মাস অপেক্ষা করে। এসময়ের মধ্যে পুলিশ তাদের বিষয় খোঁজ-খবর না নিলে এইসব টাকা খরচ করে। তাদের কাছ থেকে মাত্র ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সম্পাদনা: সমর চক্রবর্তী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়