শিরোনাম
◈ সিঙ্গাপুর হংকং লন্ডন নিউইয়র্কের বাজারে ১ বিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম বন্ড ছাড়ছে বাংলাদেশ, দায়িত্বে জেপি মরগান চেজ ◈ নোংরা মোজায় লুকিয়ে জার্মানিতে পাচার হচ্ছিল ৩০০০ মাকড়সা, মূল্য ১৫ লাখ ইউরো ◈ মেসির রাজকীয় বিদায়, রোনালদোর প্রস্থান বিতর্কে— দুই কিংবদন্তির প্রাপ‌্য সম্মান নি‌য়ে প্রশ্ন ◈ কুমিল্লায় পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ভুয়া সন্দেহে এএসআইসহ ৩ জনকে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা ◈ তৃণমূলে কোন্দল, স্থানীয় সরকার নির্বাচ‌নে একক প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খা‌চ্ছে বিএনপি ◈ এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলের ফুটবলে! ◈ রোনালদোকে ‘কিংবদন্তি’ বলেই বিদায় জানালেন নেইমার ◈ মালয়েশিয়ায় চাকরি বিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে বোয়েসেল, আবেদন শুরু আজ থেকেই; বেতন ১,৭০০ রিঙ্গিত ◈ মার্কিন নির্বাচনে রেকর্ড ৩৬ মুসলিম প্রার্থীর জয় ◈ যুদ্ধবিরতি চাইলে সৌদিকে গুনতে হবে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা!

প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ দুপুর
আপডেট : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ভুয়া সন্দেহে এএসআইসহ ৩ জনকে ক্যাম্পাসে নিলেন কুবি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির সময় পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তিকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা শহরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে।

আটক তিনজনের মধ্যে একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা। অপর দুজন হলেন কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ। তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে যাচ্ছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান ওই তিন ব্যক্তি। তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি। এতে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়।

Advertisement

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওই তিন ব্যক্তি তাদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি করছিলেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশ সদস্য বলে দাবি করেন। তবে পরিচয়পত্র না দেখিয়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, টিউশন শেষে রেসকোর্সের গলি দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। একপর্যায়ে তার সঙ্গে অসদাচরণও করা হয় বলে দাবি করেন সিয়াম। ঘটনাস্থলে থাকা অপর দুজনও নিজেদের পরিচয় দিতে পারেননি।

তবে এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তারা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

শ্যামল সাহা বলেন, পরিস্থিতি দেখে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।

পরে শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাক্‌বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে গাড়িতে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। ফলে উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা যৌক্তিক জায়গায় এসে বিষয়টির সমাধান করেছি এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯ নম্বরে কল দিলেও বিষয়টি সমাধান করা যেত। ঘটনার পর বাসে করে তাদের নিয়ে আসাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’