শিরোনাম
◈ কমলাপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের বগিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট ◈ জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ল, ডিজেল ১৩৫ ও পেট্রোল ১৬০ টাকা লিটার ◈ ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে ◈ নতুন পেনশন নীতিমালা: পুনর্বিবাহ না করলে আজীবন পারিবারিক পেনশন, ৫০ বছরের বেশি বিধবাদের ছাড় ◈ এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ◈ সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ  ◈ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮১ কোটি ডলার ◈ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারত বিটুবি টাস্কফোর্সের তাগিদ ◈ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সা‌বেক ভি‌সি  মাকসুদ কামালসহ ৫ জ‌নের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ◈ এশিয়ান গেমস ম‌হিলা ক্রিকে‌টে স্বর্ণ-রৌপ্যের সুযোগ শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পা‌কিস্তান

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪১ রাত
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৪১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাদক পাচার অনলাইনে জুয়াসহ অপরাধে ১৯৮ বিদেশি নাগরিক কারাগারে বন্দি

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে মাদক পাচার, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইনজুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কেউ মাদক পাচার, কেউ অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও জুয়া, আবার কেউ অন্যান্য অপরাধের মামলায় আটক রয়েছেন। 

advertisement

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও জুয়ার অভিযোগে আটক ব্যক্তির সংখ্যাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণা, অবৈধ লেনদেন ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কারা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর এসব আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ৩০ জন। বাকি ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বন্দি এবং তাদের মামলার বিচার চলছে।

advertisement

সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।

advertisement

পুলিশ সৃত্রে জানা যায়, নগরের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে বিদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়েছিল। ওই স্থান থেকে অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। চাকরির প্রলোভন, অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক ছিল।

পুলিশের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ ও যোগাযোগের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আলোচনায় মাদক পাচারের ঘটনাও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের গ্র্যান্ড বাহামা দ্বীপের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ আটক করা হয়।

৫৩ বছর বয়সী ওই নারীর কাছে থাকা একটি কম্পিউটার ইউপিএসের ভেতর থেকে কোকেনের চালানটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোল।

কোকেন চালান তদারকিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ফুটবল খেলোয়াড় এবং দেশের বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলতেন। পুলিশের অভিযোগ, ফুটবল খেলার আড়ালে তারা মাদক পাচারে জড়িত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় সূত্র জানা যায়,চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ কয়েদিসহ ৮৩ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন ২ জন, কক্সবাজার কারাগারে ৬১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ১ জন, নোয়াখালী কারাগারে ১ জন, ফেনী-১ কারাগারে ৩ জন, রাঙামাটি কারাগারে ২ জন এবং বান্দরবান কারাগারে ৪৫ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, ‘মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অনেক বিদেশি বন্দি বিভাগের কারাগারগুলোতে রয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। মিয়ানমারের বন্দিদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।

বিভাগের ১২টি কারাগারের মধ্যে আটটিতে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৮ জন হাজতি এবং ৩০ জন কয়েদি।