শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ১২ মে, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হালির পেঁয়াজে ব্যস্ত ফরিদপুরের মাঠ: ঘামে ভিজে কৃষকের স্বপ্ন বুনন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ভোরের নরম রোদ আর খোলা আকাশের নিচে সবুজ মাঠজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা। হালির পেঁয়াজের ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার আর গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়ার কাজে দিন কাটছে তাঁদের। বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়—কেউ ঝুঁকে, কেউ হাঁটু গেড়ে, আবার কেউ হাসিমুখে হাতে দা-কোদাল নিয়ে পেঁয়াজ ক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত। এই দৃশ্য এখন ফরিদপুরের গ্রামাঞ্চলে নিত্যদিনের।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে হালির পেঁয়াজের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ার আশায় অনেক কৃষকই এবার পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে সদর, মধুখালী, সালথা ও ভাঙ্গা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে চোখে পড়ছে সবুজ পেঁয়াজ ক্ষেত।

ফরিদপুরের নগরকান্দার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “এখন পেঁয়াজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আগাছা না তুললে আর ঠিকমতো পরিচর্যা না করলে ফলন কমে যায়। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষেতে থাকতে হয়।” আরেক কৃষক রহিম শেখ জানান, পরিবারের সবাই মিলে ক্ষেতের কাজ করছেন। শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় নিজেরাই মাঠে নেমেছেন।

কৃষকদের মতে, হালির পেঁয়াজের জন্য নিয়মিত সেচ, সময়মতো নিড়ানি এবং রোগবালাই দমন খুব জরুরি। বিশেষ করে পাতায় ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হলে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতি হতে পারে। তাই কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছেন তাঁরা।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “এ বছর আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূলে রয়েছে। কৃষকেরা যদি সঠিক পরিচর্যা বজায় রাখেন, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা আছে।” তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করছেন।

পেঁয়াজ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলাজাত ফসল। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটে, আর দাম কমলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। তবু সব অনিশ্চয়তার মাঝেও ফরিদপুরের কৃষকেরা আশায় বুক বেঁধে মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন। তাঁদের বিশ্বাস—যত্ন আর পরিশ্রমের ফল একদিন ঠিকই ঘরে উঠবে।

সবুজ পেঁয়াজ ক্ষেত আর কর্মচঞ্চল কৃষকের এই দৃশ্য যেন বলে দেয়—মাটির টানেই বেঁচে থাকে গ্রামবাংলা, আর কৃষকের হাতে গড়েই তৈরি হয় দেশের খাদ্যভিত্তি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়