ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাইয়ে সুদ কারবারিদের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে চার পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য স্থানীয় এক সুদ কারবারিকে দায়ী করে কঠোর বিচার দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার সকালে ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাইশাকান্দা এলাকার মাঝিপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুমন রাজবংশী অপু (৩৬)। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সুমন রাজবংশী অপু ওই গ্রামের মৃত আনন্দ রাজবংশীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে অপুর লেখা চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেন, তার মৃত্যুর জন্য স্থানীয় জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, টাকার লোভ দেখিয়ে চক্রবৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে তার ধানক্ষেত ও রাস্তার জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো সাক্ষী–প্রমাণ ছাড়াই বাড়ির দলিল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার বাড়ির দলিল ও জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে এবং কোনো টাকা না দিয়েই তার জীবনের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
চিরকুটের অন্য অংশে স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা রেখে যান অপু। সেখানে তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করতে অনুরোধ করেন এবং সন্তানদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও মায়ের কথা শোনার আহ্বান জানান।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, অপু স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলেন। শনিবার ভোররাতেও সুদের টাকা পরিশোধের জন্য তাকে মুঠোফোনে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুদের টাকায় কেনা একটি অটোরিকশা পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয় অপুকে। পরে জমি বিক্রি করেও দেনা শোধ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকালে উঠে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর ও শাহীন নামের ব্যক্তিরা নিয়মিত সুদের টাকার জন্য চাপ দিতেন এবং তার ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির দলিল নিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় ধামরাই থানার পুলিশ জানায়, চিরকুটটি তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।