শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১০ বিকাল
আপডেট : ১০ মে, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জীবননগরের অলি-গলিতে নির্বাচনী উন্মাদনা, চায়ের দোকানগুলো যেন এক একটি ভোট ক্যাম্প

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে  নির্বাচনী উৎসবের আমেজ তুঙ্গে উঠেছে।

উপজেলা শহরের অলি-গলির চায়ের দোকানগুলো এখন ভোট আলোচনা ও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সকাল-বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি চায়ের দোকানে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা বিশ্লেষণ আর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সরগরম আড্ডা।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে মিছিল-মিটিং, উঠান বৈঠকসহ প্রচার-প্রচারণা বেড়েছে কয়েকগুণ। একই সঙ্গে চায়ের দোকানে বেড়েছে ভিড়—অনেক দোকানি দৈনিক চায়ের কেটলি ও কাপের সংখ্যা বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। নির্বাচনী উত্তাপে চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিও।

জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এমন কোনো চায়ের দোকান নেই যেখানে ৮-১০ জন ভোটার জটলা করে আড্ডা দিচ্ছেন না। রায়পুর, হাসাদাহ, মাধবপুর, পিয়ারাতলা, বেনীপুর—সব জায়গাতেই একই চিত্র। শীতের সকালে কিংবা সন্ধ্যার পর দোকানগুলোতে রাজনৈতিক কথাবার্তায় মুখর সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, “এখন দেশের প্রধান আলোচনার বিষয় নির্বাচন। সবাই জানতে চায় কোন আসনে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে।”

চায়ের দোকানি মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচনী আমেজ শুরু হওয়ার পর থেকেই চা বিক্রি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। পিয়ারাতলা বাজারের দোকানি হাসেম আলী বলেন, আগে দিনে ২ কেটলি চা বিক্রি হতো, এখন হয় ১০ কেটলি।

বেনীপুর বাজারের দোকানি মাজেদুর জানান, বাড়তি ভিড় সামলাতে নতুন কেটলি ও কাপ কিনেছেন।

স্থানীয় ভোটার আবিদ আলী বলেন, “এবার ভোটের মাঠে লড়াই হবে সমানে-সমানে। সবাই চায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ মানুষ নির্বাচিত হোক।”

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাসে সাধারণ মানুষ এখন আরও উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন—এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।

ভোটারদের প্রত্যাশা এবার একটাই—অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর সেই প্রত্যাশার আলোচনাই চায়ের কাপ পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি অলি-গলি, বাজার ও মোড়ে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়