শিরোনাম
◈ টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি দূর করতে হবে ◈ ফারাক্কায় আপত্তি নেই, তবে পদ্মা ব্যারেজে কেন ভারতের অস্বস্তি? ◈ সীমান্তে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, কী বার্তা দিতে চাইছে ভারত? ◈ বাংলাদেশকে ২৩ খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব চীনের, প্রধানমন্ত্রীর সফরে হতে পারে চুক্তি ◈ যে কারণে হোটেলের বুকিং বাতিল করে কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা! ◈ আসিফ আকবর আটক হননি, গুজব উড়িয়ে দিলেন নিজেই! ◈ অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও বৃহৎ শক্তির ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ◈ বিশ্বকা‌পের প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ‌রোববার সকা‌লে মিশরের মুখোমুখি ব্রাজিল ◈ অপরাধী শনাক্তে ঢাকায় এআই প্রযুক্তি: ২ লাখ অপরাধীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে, মুখমণ্ডল শনাক্ত করে পাঠাবে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৫ দুপুর
আপডেট : ০৭ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নবীনগরের কৃষিতে স্কোয়াশ নতুন সম্ভাবনা

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় শীতকালে কৃষকের মাঠে শোভা পাচ্ছে নানা ধরনের শাকসবজি। এসব সবজির পাশাপাশি নতুন করে চাষ করা হয়েছে স্কোয়াশ। স্কোয়াশ একটি বিদেশি সবজি। দেখতে অনেকটা শসার মতো। স্কোয়াশ সবজির আবাদ বিভিন্ন উপজেলায় শুরু হয়েছে। এর চাহিদাও ব্যাপক। উচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই সবজি স্কোয়াশ। দেখতে শসার মতো অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও উচ্চ ফলনশীল লাভজনক এই সবজি। লাভবান হওয়ায় স্কোয়াশ চাষে কৃষকের আগ্রহও বাড়ছে। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এক বিঘায় চাষাবাদ বাবদ দশ হাজার টাকা খরচ হলেও ১শ  দিনের ব্যবধানে লাভ হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে সম্ভাবনাময় স্কোয়াশ সবজির সফল চাষ শুরু হয়েছে বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাঙা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেন। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন তিনি। পরবর্তীতে ৪৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন করতে সক্ষম হন।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বলেন, “স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও কম। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারে এই মূহুর্তে ৩৫ থেকে ৪০ টাম পাওয়া যাচ্ছে। দাম ভালো থাকায় লাভ হচ্ছে।” তার সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বড়িকান্দি ইউনিয়নের পাশাপাশি নবীনগর পৌরসভা এলাকাতেও স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষক মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। তিনি জানান, পারিবারিক উদ্যোগে এই সবজি চাষ শুরু করেছেন এবং কম সময়ে ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করেও কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার দেলোয়ার হোসাইন জানান, “সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি, যাতে এই ফসল আরও বিস্তৃত হয়।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ ও পতিত জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি নবীনগরের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিণত হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়