শিরোনাম
◈ শিশুর ডিএনএ টেস্টের দাবি, বাংলাদেশে চাইলেই কি এই টেস্ট করা যায়? ◈ দুর্গাপূজা ঘিরে সীমান্তে মোতায়েন হচ্ছে ১০ হাজার বিজিবি ◈ নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা(ভিডিও) ◈ সচিবালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি, দুপুর ১২টার আগে ঢুকতে পারবেন না দর্শনার্থীরা ◈ ছয় ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২০০ কোটি টাকা আটকা, ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ◈ ঢাকা-রিয়াদ রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত ◈ সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা, ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ◈ পুরান ঢাকার চকবাজারে ৮ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন, কাজ করছে ১০ ইউনিট ◈ মোংলা ইপিজেডে ২১০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান ◈ ব্যাংককে চলছে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা, জ্বালানি ও বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫৫ বিকাল
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আঙুল দিয়ে ইনজেকশন, জিন দিয়ে অপারেশন নিতে মানুষের ভিড়

জয়পুরহাটের কালাইয়ে জিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পুনট ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে জাহেরা বিবি (বানেছা পরী) নামের এক নারী প্রায় এক দশক ধরে চিকিৎসার নামে এ প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জাহের বিবির দাবি, তার মাধ্যমে জিন রোগ নির্ণয় করে, চিকিৎসা দেয় এবং ভবিষ্যৎও বলে দেয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বানেছা পরীর বাবা আবুল হোসেন এবং বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলাম মিলে গড়ে তুলেছেন জিন চিকিৎসালয়।

এখানে রোগী দেখা হয় সপ্তাহে চার দিন। সিরিয়ালের জন্য দিতে হয় ৩০ টাকা। এরপর শুরু হয় তেল পড়া, পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক এবং আঙুল দিয়ে ইনজেকশন দেওয়ার মতো হাস্যকর অপচিকিৎসা। তার বাড়ির আঙিনায় শত শত রোগীর ভিড়।

Advertisement

কেউ এসেছেন ক্যানসার, কেউ টিউমার, কেউ আবার সন্তানহীনতা বা মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে। বেশির ভাগ সময়েই বলা হয় রোগী ‘শেষ পর্যায়ে’, ‘জিনের খপ্পরে’ কিংবা ‘আর বাঁচবে না’। এরপর আর্থিক লেনদেন শুরু হয়। দর-কষাকষি করে দাবি করা হয় ৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত।

যার অবস্থা যত করুণ, তার কাছ থেকে দাবি তত বেশি। খবর সংগ্রহ করতে গেলে জাহেরা বিবি বাবা আবুল হোসেন ও তার বোনের স্বামী জাহিদুল ইসলামসহ লোকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। কীভাবে চিকিৎসা করেন—এমন প্রশ্নে তারা জানান, তাদের টাকার দরকার, পারলে তাদের ব্যবসা বন্ধ করেন। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনও অবহিত থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জাহেরা বিবি নিজেই দাবি করেন, প্রশাসনের লোকজন নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।

চিকিৎসা নিতে আসা কোরবান আলী নামে একজন রোগী বলেন, লোকমুখে শুনে এসেছি, দেখি কী হয়। জহুরা বেগম নামের আরে রোগী জানান, তার হাত ভাঙে গেছে। হাসপাতালে না গিয়ে এখানে এসেছেন জিন দিয়ে সাড়তে।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রসুল ও মাহতাব আলী প্রামাণিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটা ইসলামবিরোধী, অমানবিক এবং আইনবিরোধী। তারা বহুবার এই ধরনের প্রতারণা বন্ধের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু বারবার প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রতারকচক্র তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেলে কখনও অর্থের প্রলোভন, কখনো হুমকি দিয়ে তাদের বাধা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মাহফুজ আলম বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রতারণামূলক। চিকিৎসা দেওয়ার অধিকার কেবলমাত্র রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকদের রয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক হুমকি এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে স্থায়ী ক্ষতির মুখে ফেলছে।

এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জিন দিয়ে অপারেশনের বিষয়ে এই প্রথম আমাদের মাধ্যমে জানলাম। এটি অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান জানান, এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সূত্র: কালের কণ্ঠ