বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না হাজার হাজার বাংলাদেশী। ভিসা এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ক্লিয়ারেন্সে অসংগতি, জাল কাগজপত্র, ভিসার শর্তভঙ্গ কিংবা ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তথ্যের গরমিলসহ নানা কারণে আটকে যাচ্ছে তাদের বিদেশযাত্রা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকার পরও বিকল্প পথে প্রবেশের চেষ্টা ধরা পড়ছে। সূত্র: বণিক বার্তা
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশের বিমানবন্দর থেকে মোট ৮১ হাজার ৫০০ যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে ২ কোটি ৯১ লাখের বেশি বিদেশে গেছেন। অর্থাৎ একদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানসহ নানা কাজের জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী প্রতি বছর দেশ ছাড়ছেন, অন্যদিকে তাদের একটি অংশ বিমানবন্দরের শেষ ধাপেই আটকে যাচ্ছেন নানাভাবে প্রতারিত হয়ে।
বিদেশ যেতে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আসেন তাসলিমা বেগম (ছদ্মনাম)। দাবি অনুযায়ী, ওমানে থাকা স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সও। সাধারণ চোখে বিদেশযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি ছিল না। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কয়েকটি প্রশ্নেই বদলে যায় পরিস্থিতি। কেননা দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ কর্মী ভিসা ও নারী গৃহকর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
ওমানে স্বামী কত বছর ধরে আছেন—জবাবে তাসলিমা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর। এরপর জানতে চাওয়া হয় তাদের বিয়ের সময়কাল। তিনি জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে ‘মোবাইলে’। দেখাতে বলা হলে তিনি একটি বিয়ের ছবি উপস্থাপন করেন। কিন্তু নিবন্ধিত নিকাহনামা বা বিয়ের বৈধ কোনো নথি ছিল না তার কাছে।