প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে অবনতি, ব্রডব্যান্ডে উন্নতি

মিনহাজুল আবেদীন: [২] মোবাইল ইন্টারনেটের গতির বৈশ্বিক সূচকে আরও তিন ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে। রোববার বৈশ্বিক ইন্টারনেটের গতির সূচক প্রকাশ করা খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ওকলা বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের রিপোর্টে এ তথ্য দিয়েছে। ডিবিসি টিভি

[৩] এই সূচক অনুযায়ী বর্তমানে ১৪১টি দেশের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪তম। মোবাইল ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে চারটি অপারেটরের গড় ডাউনলোডের গতি ৮ দশমিক ৯১ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ৬ দশমিক ৭২ এমবিপিএস। সমকাল

[৪] গতির এ চিত্র বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বনিম্ন। সূচকের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, এর আগে বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৫তম। দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর আগস্ট মাসে বাংলাদেশের অবস্থানের কিছুটা উন্নতি হয় এবং সূচকে ১৩১ নম্বরে উঠে আসে। এরপর আবার অবস্থানের তিন ধাপ অবনতি হয়ে ১৩৪ নম্বরে নেমে আসে।

[৫] সূচকে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে শীর্ষে আছে মালদ্বীপ। দেশটিতে মোবাইল ইন্টারনেটে গড় ডাউনলোডের গতি ৪৮ দশমিক ৪৬ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ১৬ দশমিক ৩০ এমবিপিএস। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১১৭, শ্রীলঙ্কার ১২০ এবং নেপালের ১০৭তম। সূচকে ভুটানের মোবাইল ইন্টারনেটের গতির কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারের অবস্থান ৮৮তম।

[৬] সূচকে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে শীর্ষে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরই মধ্যে ফাইভজি চালু হওয়া দেশটিতে মোবাইল ইন্টারনেটে গড় ডাউনলোডের গতি ১৩০ দশমিক ১৯ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ২৩ দশমিক ৯৩ এমবিপিএস। দেখা যায়, দেশটিতে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের চেয়ে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেশি। বর্তমানে সেখানে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ডাউনলোডের গতি ১০১ দশমিক ৭৬ এমবিপিএস।

[৭] মোবাইল ইন্টারনেটে অবস্থানের অবনতি হলেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। আগের প্রান্তিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৬। তৃতীয় প্রান্তিকের শেষে সে অবস্থানের উন্নতি হয়ে বাংলাদেশ ৯৪ নম্বরে উঠেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ডাউনলোডের গতি ২৯ দশমিক ১ এমবিপিএস এবং আপলোডের গতি ২৭ দশমিক ৮১ এমবিপিএস। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে আছে ভারত। এর অবস্থান ৭০তম। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিশ্বে শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর, যার ডাউনলোড গতি ১৮৮ দশমিক ১১ এমবিপিএস এবং আপলোড গতি ১৬১ দশমিক ৫২ এমবিপিএস।

[৮] এ সূচক সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সমকালকে বলেন, ‘ওকলা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়নের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে তাদের প্রতিবেদনকে সেভাবেই দেখতে হবে। এটিকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।’

[৯] তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিয়ে সমস্যা আছে- এটি অস্বীকার করছি না। সেসব সমস্যা দূর করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তার সুফল আশা করা যায়, কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। কিন্তু ওকলার রিপোর্টে সঠিক তথ্য আসছে বলে মনে হয় না। তারা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে দুই ধাপ অগ্রগতি দেখিয়েছে। আসলে এটি হওয়া উচিত ২০ ধাপ। বিশেষ করে এ সময়ে “এক দেশ, এক রেট” চালুর পর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তৃতি এবং গুণগত মানের দিক দিয়ে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।’

সর্বাধিক পঠিত