প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় রাজনীতিতে জিন্নাহর অন্য রূপ হলেন ওয়াইসি: সুরেন্দ্র সিং

রাশিদ রিয়াজ : ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ‘ওয়াইসি গণতন্ত্রের একপ্রকার সন্ত্রাসী এবং বর্তমানে ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর অন্য রূপ হলেন ওয়াইসি। জিন্নাহর দ্বিতীয় রূপ সৃষ্টি হয়েছে।’ পারসটুডে

সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশ, ওয়াইসিকে টার্গেট করে বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং বলেন, ‘উনি ভারতকে বিভক্ত করার রাজনীতি শুরু করেছেন। গণতন্ত্রে রাজনীতি করেই এদেশকে যত ক্ষতি করা যায় তা করার জন্য উনি ষড়যন্ত্র করছেন। আমি তো এটাই বলব যে, ভারতকে বিভক্ত করতে ষড়যন্ত্র রচনাকারী দ্বিতীয় জিন্নাহ ভারতভূমিতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চলে এসেছে। এই জিন্নাহ থেকে সাবধান থাকা উচিত।’

বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং আরও বলেন, অখিলেশ যাদব ও ওমপ্রকাশ রাজভর এই গণতান্ত্রিক জিন্নাহ ওয়াইসির প্রশংসা করছেন। কিন্তু গণতন্ত্রের এই দ্বিতীয় জিন্নাহ ভারতের মাটিতে এসেছেন ওয়াইসি রূপে।

বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং দেশভাগের জন্য নেহরু ও গান্ধিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ভারত যে স্বাধীনতা পেয়েছিল তা ছিল খণ্ডিত স্বাধীনতা এবং শুধুমাত্র নেহরু ও গান্ধির কারণেই দেশ ভাগ হয়েছিল। এই জিনিসটা এখনো মনকে কষ্ট দেয়, দুঃখ হয়। কংগ্রেসীরা যতটা দুর্বল ভারত রেখে গেছে, আজ প্রধানমন্ত্রী মোদিজী ততটাই ভারতকে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শক্তিশালী এবং সক্ষম করেছেন।

উত্তর প্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসছে। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সম্প্রতি এক জনসভায় মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহকে, সর্দার প্যাটেল ও গান্ধিজীর মতো স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ তাঁর বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘তালেবানি মানসিকতা’ বলে অভিহিত করে অখিলেশ যাদবকে ক্ষমা চাইতে বলেন। অখিলেশ যাদব বলেন, সর্দার প্যাটেল, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু এবং মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ব্যারিস্টার হয়ে এসেছিলেন। তাঁরা একই জায়গায় লেখাপড়া করেছেন। তাঁরা ব্যারিস্টার হয়ে দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কোনোভাবে সংগ্রাম করতে হলে পিছপা হননি। এরপরেই রাজ্যে ওই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অখিলেশ অবশ্য এতে বিচলিত না হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাকে কেন এর ব্যাখ্যা দিতে হবে? আমি বরং বলব, বইপত্রগুলো আর এক বার পড়ে দেখুন।’ উত্তর প্রদেশে বিজেপি জিন্নাহ সম্পর্কিত মন্তব্যকে অস্ত্র করে বিরোধী সমাজবাদী পার্টির সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত