শিরোনাম
◈ শাহজালালে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান এক দিনের রিমান্ডে ◈ ‘ভারতের হাতে আর কোনো সুযোগ ছিল না’—শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ত্রিবেদী ◈ বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসছে : আইনমন্ত্রী ◈ সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগের অধিকার, কার্যকর নতুন আইন ◈ মিরপুর ১০ নম্বর মোড়ে ফুটপাত দখলমুক্ত, স্বস্তিতে পথচারী (ভিডিও) ◈ তুরস্ককে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম, ডি ব্রুইনার জোড়া গোল ◈ ২০৩০ সালে একই বছরে যে কারণে দুবার রমজান, ৩৬ দিন রোজা রাখবেন মুসলিমরা ◈ ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন! ◈ বিদেশযাত্রায় ভিসা বাণিজ্য: সরকারি খরচের চেয়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ে বিদেশে যাচ্ছেন কর্মীরা! ◈ ময়মনসিংহে বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার রুবেল, বললেন—‘সেবা করতে গিয়েছিলাম’

প্রকাশিত : ০৭ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৫৭ রাত
আপডেট : ০৮ নভেম্বর, ২০২১, ০১:৩২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] কক্সবাজারের ‍কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও মাদক ব্যবসায় জড়িত: র‌্যাব ডিজি

মারুফ হাসান: [২] কক্সবাজারের স্থানীয় কিছু জনগণ মাদককে পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে মনে করে। মাদকের খুচরা বিক্রেতারা এ কাজ করেই তাদের সংসার চালায়। এ এলাকার কিছু শিক্ষক এমনকি অন্য পেশারও কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

[৩] বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণিতে মাদক ব্যবসার এ চিত্র উঠে এসেছে।

[৪] গত ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। রোববারের বৈঠকে কার্যবিরণীটি অনুমোদন দেওয়া হয়। মাদক নির্মূলে এমপি-মন্ত্রীসহ সব শ্রেণির মানুষকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার প্রস্তাব উঠে। পরে এই প্রস্তাবের আংশিক সুপারিশ আকারে নিয়ে আসা হয়।

[৫] কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং রুমানা আলী অংশ নেন।

[৬] কমিটির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, ডোপ টেস্ট প্রথা চালুর কারণে মাদকাসক্তরা ইদানিং সতর্ক হচ্ছে। এমপি-মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক সর্বক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ডোপ টেস্টের কারণে সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলে সমাজের সবাই সচেতন হবেন।

[৭] অবশ্য সভাপতি সব শ্রেণিকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার প্রস্তাব করলেও তার আংশিক সুপারিশ আকারে নিয়ে আসা হয়। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব সরকারি সংস্থা, দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়মিত ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে হবে বলে সুপারিশ করা হয়।

[৮] জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির বুধবারের বৈঠকে মাদক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে দুই সচিবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা দেশের মাদক পরিস্থিতি ও মাদক প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।

[৯] জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, যৌন হয়রানি ও মাদক মামলায় কেউ সাক্ষী দিতে আসে না বিধায় আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই পেশায় জড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন মামলা চলার পর এক সময় দেখা যায়, মামলার নথিপত্র আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

[১০] বৈঠকে পুলিশের আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু প্রলম্বিত বিচার, বিচারক স্বল্পতা এবং সহজে জামিনে বের হয়ে যাওয়া যেন চিরাচরিত নিয়ম। জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সেই মাদক ব্যবসায় ফিরে আসছে। একটি মাদক মামলা চূড়ান্ত রায় হতে প্রায় ১২ বছর লেগে যায়। তখন আর কিছুই করার থাকে না। দেশে কোনো মাদক তৈরি বা উৎপাদন হয় না। সবই আসে দেশের বাইরে থেকে।

[১১] র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের কিছু শিক্ষক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় এসব ব্যক্তি মাদক কেনাবেচাকে পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে মনে করে। সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে । তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা রোধ করা একটু কঠিন হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা সতর্ক রয়েছে।

[১২] তিনি বলেন, মাদকসেবীরা প্রথমে শখের বসে মাদকসেবন করে। পরে মাদকাসক্ত হলে চোরাকারবারীরা তাদের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করে। র‌্যাবের ডিজি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নয়, সব শ্রেণির জনগণ স্বোচ্চার হলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করায় সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে। মাদকপাচারকারীদের জন্য এ ব্যবস্থা করা গেলে সফলতা আসবে বলে মনে করেন র‌্যাব ডিজি।

  • সর্বশেষ