প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রংপুরে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব প্রায় বিলুপ্তরপথে

আফরোজা সরকার, রংপুর প্রতিদিনধি: এক সপ্তাহের মধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর । এই থেকে শুরু হবে নবান্ন ঐতিহ্যবাহী ধানের পিঠার উৎসব উত্তরবঙ্গের প্রধান উৎসব। বাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, তার মধ্যে নবান্ন উৎসব অন্যতম। “নবান্ন” শব্দের অর্থ “নতুন অন্ন”। নবান্ন উৎসব হল নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান কাটা থেকে ঘরে ঘরে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও মাঘ মাসেও নবান্ন উদ্‌যাপনের প্রথা রয়েছে।

নবান্ন অনুষ্ঠানে নতুন অন্ন পিতৃপুরুষ, দেবতা, কাক ইত্যাদি প্রাণীকে উৎসর্গ করে এবং আত্মীয়-স্বজনকে পরিবেশন করার পর, গৃহকর্তা ও পরিবারবর্গ নতুন গুড় সহ নতুন অন্ন গ্রহণ করেন। নতুন চালের তৈরি খাদ্যসামগ্রী কাককে নিবেদন করা নবান্নের অঙ্গ একটি বিশেষ লৌকিক প্রথা রংপুর অঞ্চলে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাকের মাধ্যমে ওই খাদ্য মৃতের আত্মার কাছে পৌঁছে যায়। এই নৈবেদ্যকে বলে “কাকবলী”। অতীতে পৌষ সংক্রান্তির দিনও গৃহদেবতাকে নবান্ন নিবেদন করার প্রথা ছিল।

নবান্ন উৎসব হিন্দু ও মুসলমানদের একটি প্রাচীন প্রথা। হিন্দুশাস্ত্রে নবান্নের উল্লেখ ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করা রয়েছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, নতুন ধান উৎপাদনের সময় পূর্বপুরুষরা অন্ন প্রার্থনা করে থাকেন। এই কারণে হিন্দুরা পার্বণ বিধি অনুযায়ে নবান্নে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে থাকেন। দুইশত বছর আমলে শাস্ত্রমতে, নবান্ন শ্রাদ্ধ না করে নতুন অন্ন গ্রহণ করলে দেবতাদের পাপের ভাগী হতে হয়। একদা অত্যন্ত সাড়ম্বরে নবান্ন উৎসব উদ্‌যাপন হত, শুধু তাই নয় হেন্দু মুসলিম সকল মানুষের সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে নবান্ন উৎসব সমাদৃত ছিলো একটি বড় উৎসব। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নবান্ন উৎসব বিলুপ্তপ্রায়। তবে এখনও উত্তরবঙ্গের কিছু কিছু এলাকায় নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার আশেপাশে কয়েকটি ইউনিয়নসহ লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে আবহমানকাল ধরে নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুর গাইবান্ধা, ঠাকুরগাও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিহাট সহ বিভিন্ন স্থানে আনুষ্ঠানিক নবান্ন উৎসব উদযাপিত হয়। তবে একটা সময় নবান্ন উৎসব অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে, কিন্তু অতিতের মত ঘরঘর নবান্ন উৎসব পালিত হয় না। কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব এখন প্রায় বিলুপ্তপথে।

রংপুর উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন. আমাদের দেশে ১৯৯৮ সন থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নবান্ন উৎসব উদ্‌যাপন শুরু হয়েছে। জাতীয় ভাবে নবান্নোৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদ প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণ তারিখে নবান্ন উৎসব উদ্‌যাপন করে। উৎসব বাংলা ৩ দিন ব্যাপি নবান্ন উৎসবআয়োজন করে আসছে রমনা বট মূলে l এ ছাড়া সাংকৃতিক সংগঠনগুলোও ৩ দিন ব্যাপি নবান্ন উৎসব ও পিঠা মেলা আয়োজন করে আসছে । এ উৎসবের প্রায় ৩৩ টি স্টলে নানার রকমের বাহারি ধরনের পিঠা সাজানো থাকে । এ ছাড়া উৎসব প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আয়োজন করা হয় নবান্নের নাচ, নবান্নের গান, লোকগীতি লালন গীতি বাউল গান,সাপ খেলা বানর খেলা, লাঠি খেলা, নাগর দোলা, পুতুল নাচ, পালকি, পথ নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই নবান্ন উৎসবের সমাপনী দিনে সেরা পিঠা শিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করা হয় ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত