প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুমন্ত আসলাম: কথাটা নগেন মুন্সী স্যার মাঝে মধ্যে বলতেন, আমার বাবাও, একজন হিন্দু এবং একজন মুসলমান

সুমন্ত আসলাম
কথাটা নগেন মুন্সী স্যার মাঝে মাঝে বলতেন, বলতেন আমার বাবাও। একজন হিন্দু এবং একজন মুসলমান। অথচ তাঁদের কথার মানে একইকারও অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করো না। খুব সাধারণ বেশেও যে বর্ণিলভাবে উজ্জ্বল বেঁচে থাকা যায়, তাঁদের কাছ থেকে তা শিখেছি আমি। আমি আরও শিখেছিএক জীবনে কী যত নিয়ে নিজ ধর্ম পালন ও লালন করা যায়, অন্য ধর্মকে সম্মান দেওয়া যায়।

[২] বারো বছর পর হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল আমাকে। মাঝরাতের দিকে তীব্র এক চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় আমার। একটা কেবিনে দুটো বেড, মাঝখানে ভারী পর্দা টানানো। পাশের বেডের মানুষটা কাতরাচ্ছেন। ঘুম আর ঠাঁই পায় না আমার চোখে। কয়েক মিনিট পর শব্দ পাই নামাজ পড়ছেন মানুষটা।

[৩] সকালে পরিচয় হলো মানুটার সঙ্গে। বয়সে আমার চেয়ে ছোট। পুরো একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। প্রশাবের রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতায় ভর্তি হয়েছেন এখানে। আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আমি আপনাকে চিনি, আপনার ‘বাউ’ পড়তাম আমি নিয়মিত। আপনার ফেসবুকের লেখাও পড়ি।’ পুলকিত বোধ করি আমি। কিন্তু সেই বোধের রেশ থাকতে থাকতেই তিনি বললেন, ‘আপনার লেখাতে অন্যের সমালোচনা থাকে, এটা পরচর্চার সামিল। পরচর্চা গুনাহর কাজ।’ তর্ক আমাকে কখনো টানে না, চুপ হয়ে বসে রইলাম আমি। কিছুটা বিব্রতবোধ করে প্রসঙ্গ বদলিয়ে তিনি বললেন, ‘আপনার শরীর এখন কেমন?’ আমি টের পেলামশরীর না, এ মুহূর্তে মনটা খারাপ হয়ে আছে বেশি।

[৪] যারা কলাম লেখেন, স্বচ্ছ সাংবাদিকতা করেন, তাদের লেখায় কোনো কিছুর সমালোচনা থাকবেইতা ব্যক্তি হোক, সরকার হোক।

এটা যদি গুনাহ, পাপ, পক্ষান্তরে খারাপ কাজ হয়, তাহলে এটা কেন করছি? এটা কি সত্যি গুনাহর কাজ? নিজের ভেতর থেকে কোনো উত্তর পাচ্ছি না। আপনাদের কাছে কোনও উত্তর আছে, বন্ধু?Sumanto Aslam-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত