প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চিরচেনা রূপে ফিরেছে জাবি

নুর হাছান: [২] বিভাগের করিডোরে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, ক্লাসরুমের প্রাণচঞ্চলতা, ক্যাফেটেরিয়ায় একসাথে খাওয়া, ক্যাম্পাসে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি, চিরচেনা সবুজ বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। করোনায় দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থেকে ৭০০ একরের নিথর, নিস্তব্ধ ক্যাম্পাস আবার জমে উঠেছে ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায়। ক্লাসরুমের ফেরার প্রতীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের সমাগমে বিভাগগুলো ও যেন হয়েছে মুখরিত।

[৩] দীর্ঘ বিরতিতে বন্ধুদের দেখা পেয়ে ফিন্যান্স বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজরীন বান্ধবীদের দেখা পেয়েই করেছে আলিঙ্গন, মেতেছে খোশ গল্পে। মনে হয়েছে প্রতীক্ষার পালা শেষে তারা পেয়েছে একে অন্যকে। নিজের আবেগ প্রকাশে তাজরীন বলেন, দীর্ঘদিন পর সেই পরিচিত মুখ, সেই পরিচিত ক্যাম্পাস, এ যেন বসন্তের নতুন অনুভূতি। আমার কাছে এখন নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে একইসাথে সব কিছু নতুন নতুন লাগছে। ভাবতে ভালোই লাগছে এখন ক্লাসরুমে সবার দেখা হবে। থাকবে না অনলাইন ক্লাশের ঝক্কি ঝামেলা।

[৪] বিভিন্ন বিভাগ তাদের শিক্ষার্থীদের বরণে সেজেছে নতুন করে। ক্লাস শুরুর আগে বিভাগের প্রবেশদ্বারে ছাত্র-ছাত্রীদের গোলাপ ফুলের অভ্যর্থনা জানিয়েছে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ। পরে প্রথমদিনের ক্লাসে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে মেতেছে গল্প আলাপে।

[৫] শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ সেজেছে বেশ জাঁকজমকভাবে। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নীলাঞ্জন কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে পাইনি। তবে অনলাইনে আমাদের শ্রেণি কার্যক্রম চালু ছিল। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে। ক্লাসের যে আনন্দ উল্লাস আমরা এতদিন মিস করছিলাম তা আবারও আমরা ফিরে পেলাম। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হাত ধোয়ার বেসিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিতভাবে বলবে ক্লাশ কার্যক্রম।

[৬] এদিকে অনুষদের সামনে কয়েকজন বান্ধবী জটলা বেঁধে মেতেছে সেল্ফি আড্ডায়। তাদের মধ্যে মাকসুদা সুলতানা, লামিয়া কুমকুম বলেন, দীর্ঘদিন পর একসাথে আবারো দেখা হয়েছে। আমাদের কাছে ঈদের মতই মনে হচ্ছে। তাই মুহুর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে সেল্ফি তুলে রাখছি।

[৭] সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় দেখা যায় দুপুরের খাবার নিতে রীতিমতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কুপন নিচ্ছে অনেকে। কয়েকজন আবার গ্রুপ আকারে ২ টাকার রং চা তে চুমুক দিতে দিতে আসর মাতিয়েছে। আগের চেয়ে খাবারের মান বৃদ্ধিতে কর্তৃপক্ষ তাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের জন্য পরিচিত বটতলা বন্ধ থাকায় ক্যাফেতে ভীড় বেড়েছে অনেক। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের হরেক রকমের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এখন থেকে পুরোদমে শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেইট, প্রান্তিক গেইটের চা দোকানগুলোতে কোলাহল বাড়লেও বটতলা, টারজান পয়েন্ট, মুরাদ চত্ত্বর, মুন্নী স্বরণীর টঙ দোকান ও হোটেল বন্ধ থাকায় আমেজে কিছুটা যেন ভাটা পড়েছে।

[৮] এছাড়া আবাসিক হলগুলোতে ও নীরবতা শেষে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নিরাপত্তা প্রহরী নুর নবী হাসিমাখা চেহারায় বেসিনে হাত পরিষ্কার করতে করতে বলেন, এতদিন ছাত্ররা না থাকায় সব কিছু ঠান্ডা ঠান্ডা ছিল। আসলে ছাত্ররা না থাকলে আমাদের ও ভালো লাগে না। এখন সবাই আসতে শুরু করছে। আবার সব আগের মত হবে।

[৯] তবে হল খুলে দিলে ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে অনুমতি না দেয়ার কিছুটা বিষন্নতা মনে তাদের গল্প আলাপে হলে ফেরার আকাঙ্খা প্রকাশ পেয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত