প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতিসংঘের সাথে সরকারের চুক্তি হওয়ায় ভাসানচরে আগ্রহ বেড়েছে রোহিঙ্গাদের

আয়াছ রনি: ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্তকরণের বিষয়ে সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে শনিবার (৯ অক্টোবর) চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ লক্ষ্যে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমঝোতা স্মারক সই করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশন (ইউএনএইচসিআর)।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেবে জাতিসংঘ। এজন্য জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ৯ অক্টোবর শনিবার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ায় আনন্দ মিছিল করেছেন ভাসানচরের রোহিঙ্গারা।

রোববার (১০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত এ আনন্দ মিছিল করেন তারা। মিছিলটি সিআইসি অফিস (শেল্টার-০৯) থেকে হাসপাতাল রোড হয়ে ১ নং রোহিঙ্গা বাজারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। ক্যাম্প হেড ফোকালদের নেতৃত্বে রোহিঙ্গারা এ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন।

ভাসানচরে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ায় সেখানে যাওয়ার বিষয়ে উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গাদের নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (১০ অক্টোবর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন মাঝির সঙ্গে কথা বলে ভাসানচরের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেছে।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প ১ এর মাঝি করিম মুস্তফা বলেন, ‘ভাসানচরে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ায় আমরা খুশি। তবে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটা ভয় ছিল বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস নিয়ে। কিন্তু যারা গেছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে বন্যায় তেমন কোনও সমস্যা নেই। তবে বাজার সদাই, ওষুধ পানির সুযোগ সুবিধা নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। এখন সেই আপত্তি থাকবে না।’

এই রোহিঙ্গা নেতা আরো বলেন, ‘আমাদের যেখানে নেবে সেখানেই যাবো। কিন্তু আমরা মিয়ানমারে যেতে চাই। আমাদের সেই ব্যবস্থাটা করতে পারলে ভালো হতো।’

এই চুক্তির আলোকে জাতিসংঘ ভাসানচরে কাজ করবে।নোয়াখালীর ভাসানচরে বর্তমানে ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

জাতিসংঘ ও শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে ভাসানচরে স্বাগত জানিয়ে মিছিলে শ্লোগান দেন রোহিঙ্গারা। ‘ওয়েলকাম ইউএন, ওয়েলকাম ইউএনএইচসিআর, থ্যাংক ইউ ইউএন, উই আর হ্যাপি’ শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিলে হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন।

ইউএনএইচসিআর বলছে, এর ফলে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সেবা ও সহায়তা কার্যক্রমে সরকার ও জাতিসংঘের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা সম্ভব হবে। সুরক্ষা, শিক্ষা, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তার মাধ্যমে শরণার্থীরা দ্বীপে মানসম্মত জীবনযাপন করতে পারবেন। এছাড়া তারা ভবিষ্যতে মিয়ানমারে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে শরণার্থীদের ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘের আপত্তি ছিল। তবে গত ১৭ মার্চ তিন দিনের সফরে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের দেখতে যান জাতিসংঘের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ভাসানচর ঘুরে আসা জাতিসংঘের কর্মকর্তারা প্রায় মাসখানেক পর ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান।

সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুর দিকে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের দেখতে যান ঢাকায় নিযুক্ত ১০ বিদেশি রাষ্ট্রদূত। সফর শেষে দাতা গোষ্ঠীদের এসব কূটনীতিকরাও ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান।

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে অধিকতর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাসানচর প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকার।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত