প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সারাদেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিদ্যমান আইন সংশোধন হচ্ছে

আনিস তপন: [২] শুধু ঢাকা নয়, এবার সারাদেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকীকরণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

[৩] এ লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সংস্কারের লক্ষ্যে বিদ্যমান ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ আইন, ২০১২ সংশোধন করে বাংলাদেশ নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২১ এর খসড়া তৈরি করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

[৪] এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ডিটিসিএ তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। ফলে প্রতিষ্ঠনটি ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ/হ্রাস/সহনীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ কারনে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার/পূনর্গঠন জরুরি বিধায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে ডিটিসিএ’র অধিক্ষেত্র শুধু ঢাকার পরিবর্তে সমগ্র বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করে বিদ্যমান ডিটিসিএ আইন সংশোধনের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

[৫] বিদ্যমান ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্র্তৃপক্ষ আইনে অপরাধ ও দণ্ডের কোন বিধান না থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ততে বলা হয়েছে, নগর এলকার পরিবহন বা পরিবহন অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কোন প্রকল্প নেয়ার আগে কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক সম্মতি বা ছাড়পত্র গ্রহণ না করলে, কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান বহুতল ভবন বা আবাসন প্রকল্প নির্মাণে ট্রাফিক সার্কূলেশন প্ল্যানসহ ছাড়পত্র না নিলে এমন অপরাধের জন্য অনধিক দুই থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে বা অনধিক দুই লাখ টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[৬] প্রস্তাবিত আইনে বাংলাদেশ নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান হবে উল্লেখ কওে বলা হয়েছে, এর স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকবে। এর স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করতে, রাখতে ও হস্তান্তর করতে পারবে। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় থাকবে। তাছাড়া সকল বিভাগীয় শহরে কর্তৃপক্ষ এর অধ:স্তন বা শাখা কার্যালয় স্থাপন করবে। ৩ (তিন) বছর মেয়াদী ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা পরিষদ থাকবে। সড়ক পবিহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন। পরিষদ অবশ্যই বছরে কমপক্ষে তিনটি সভা করবে।

[৭] পরিষদ নগর এলকায় সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ ও র‌্যাপিড পাস সিস্টেম সম্বলিত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু, নগর এলকার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা, অবকাঠামো নির্মাণ ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করবে। গণপরিবহন সংকান্ত নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দেবে এবং নগর এলাকার সার্বিক উন্নয়নের নীতি ও কৌশলের সঙ্গে গণপরিবহন উন্নয়ন পরিকল্পনা সমন্বয় করবে।

[৮] আইনে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিষয়ে বলা হয়েছে : নগর এলাকার জন্য পরিবহন খাতে কৌশলগত পরিকল্পনা, মহাপরিকল্পনা, নীতিমালা ও স্কিম প্রণয়ন এবং অনুমোদন ও তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম মনিটরিং ও সমন্বয় করবে। নগর এলাকার কোন ব্যক্তি পরিবহন ব্যবস্থা ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নেয়ার আগে প্রাথমি সম্মতি এবং এর ধারাবাহিকতায় নেয়া প্রকল্প প্রস্তাবের উপর ছাড়পত্র দেবে। প্রস্তাবিত যেসব বহুতল ভবন, আবাসন প্রকল্প বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সেসব স্থাপনায় যারবাহন প্রবেশ/নির্গমণে ট্রাফিক সার্কুলেশন নকসার অনুমোদন, ছাড়পত্র প্রদান ও মনিটরিং করবে। নগর এলকায় ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, সার্কুলার বা কমিউটার রেল ব্যবস্থার নির্মাণ, পরিচালনা, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের লাইসেন্স ইস্যূ করা ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেবে।

[৯] তাছাড়া কারিগরি মান ও ভাড়া নির্ধারণ, এসংক্রান্ত রঅইসেন্স সংক্রান্ত কাজ মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ করবে। যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবকাঠামো নির্মাণ ও নির্মিত অবকাঠামো অপসারণে এতদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেবে। নগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা, প্রবিধানমালা, গাইডলাইন প্রণয়ন/ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের অনুমতি দেবে ও মনিটরিং করবে।

[১০] নগর এলাকার ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, সার্কুলার/কমিউটার রেলসহ সকল গণপরিবহন রুটের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমোদনসহ যাত্রী ভাড়া ও লেন নির্ধারণ করবে। রুট ফ্রাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনায় রুট পরিকল্পনা প্রণয়ন, রুট অনুমোদন, রুট পারমিট দেয়া, বাস ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, বাস অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে ফ্রাঞ্চাইজি চুক্তি সম্পাদন, চুক্তি অনুযায়ী পরিবীক্ষণ, ভাড়া নির্ধারণ/প্রয়োজনে আদায়, বাস পরিবহন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও প্রণোদনার সুপারিশ করবে। স্মার্ট কার্ডের (র‌্যাপিড পাস) মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), বাস (রুট ফ্রাঞ্চাইজসহ) বা রেল (মেট্রো/মনো/সার্কুলার/কমিউটার) বা এক্সপ্রেসওয়েসহ সব গণপরিবহনের ভাড়া আদায়, স্মার্টকার্ডের ব্যবস্থাপনা ও ক্লিয়ারিং হাইজ পরিচালনা করবে। নগর এলকার গণপরিবহন ও ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটসমূহের কারিগরি মান নির্ধারণ, পর্যালোচনা ও অনুমোদন করবে। নগর অঞ্চলে এলাকাভিত্তিক ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান প্রণয়ন, পর্যালোচনা, পরিবীক্ষণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং করবে।

[১১] কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যান চলাচল নিশ্চিত করতে সময় সময় সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নীতিমালা, গাইডলাইন ইত্যাদি প্রণয়ন করবে। সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের কর্মচারী নিয়োগ হবে। তারা সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন। সম্পাদনা : ভিকটর রোজারিও

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত