প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ: সুস্থ শরীর ছাড়া যেমন সুস্থ মন সম্ভব নয়, তেমনি সুস্থ মন ছাড়া সুস্থ শরীরও সম্ভব নয়

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ: সুস্থ শরীর ছাড়া যেমন সুস্থ মন সম্ভব নয়, তেমনি সুস্থ মন ছাড়া সুস্থ শরীর ও সুস্থ জীবন কিছুতেই সম্ভব নয়। আজ ১০ অক্টোবর বিশ^ মানসিক দিবস। সারা বিশে^ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে পৃথিবী ব্যাপী বিশ^ মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন হয়ে আসছে। বিশে^র অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবেও পালন করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য বলতে মানসিকভাবে ব্যক্তির সুস্থতাকে বোঝায়। একজন ব্যক্তি যখন চারপাশের সকল সুশৃঙ্গলতা বা বিশৃঙ্গলতা দেখার পর নিজেকে সুন্দর, সুস্থ ও দেশের সুনাগরিক হিসেবে পরিচিত করাতে পারে তখন তাকে আমরা একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে গণ্য করি। যখন একজন মানুষ সুস্থ থাকে তখন পারিবারিক সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে সে ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির সাথে সাথে সকলের সন্তষ্টির অর্জন করতে পারে এবং সকলের আস্থাভাজন হতে পারে। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ও নৈতিক এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মিথষ্ক্রিয়ার আত্মোন্নয়নমূলক জীবনের প্রতিশ্রæতি হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের ব্যাপারটি সৃষ্টি হয় পরিবার থেকে। কারণ একটি শিশুর প্রথম বিকাশ শুরু তার পরিবারে। অতি আদর, অবহেলা, অতিশাসন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে যেমন ব্যহত করে তেমনি পরিমিত আদর, ভালবাসা, শাসন, মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করে। সুতরাং পরিবারগুলোকে সুগঠিত হতে হবে আন্তরিকতায় সাথে।

বিশস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে সারাবিশে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে মানসিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে আত্মহত্যার হার কমিয়ে আনা সম্ভব।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউট, ঢাকা ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর শতকরা ১৬ভাগ ও শিশু কিশোরদের শতকরা ১৮ ভাগ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ অনেক সময় প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা জাতীয় অগ্রগতির উন্নয়নের পথে বড় বাঁধা। মানসিক রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। এর প্রধান কারণ মানসিক স্বাস্থ্য রোগ ও এর চিকিৎসার প্রতি জনগনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। মানসিক রোগ ও এর চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমাজে মর্যাদাবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায়। এজন্য অনেকে মানসিক রোগের চিকিৎসা নেওয়াকে সামাজিকভাবে লজ্জাকর মনে করেন, যেটি শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। কিছু সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও অনেক সময় রোগী ও পারিবারের সদস্যগন খারাপ আচরণের শিকার হন। এজন্য পারিবারিক শ্রদ্ধা বোধ বজায় রাখা জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যে মর্যাদাবোধ বিষয়টি শুধু রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও নিরাময় প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর অর্থ ব্যাপক। মানসিক রোগীর ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতীত জোরপূর্বক আটকে রাখা মর্যাদাহানি, নিমানের সেবা, সঠিক সময়ে চিকিৎসা যা পাওয়া এসব বিষয় মর্যাদার সংঙ্গে জড়িত। এ বিষয়টি খেয়াল করে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রæত রোগ নির্ণয় করে তাকে বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। লেখক: উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত