প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুগ্মসচিব পদোন্নতি আসন্ন, ফুরফুরে মেজাজে প্রভাবশালীরা, নিরীহরা উৎকণ্ঠায়

ডেস্ক রিপোর্ট: যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দিতে এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) বৈঠক করছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে রোববার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দ্বিতীয় দফায় এসএসবির বৈঠক বসে। এর আগে প্রথম বৈঠক হয় গত বুধবার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকটি চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। যুগান্তর

এদিকে এই পদোন্নতিকে ঘিরে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। বিপরীতে নানারকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন পার করছেন মেধাবী ও নিরীহ কর্মকর্তাদের অনেকে। বিশেষ করে মেধাবী হলেও যারা সাধারণ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত, তাদের দুশ্চিন্তা একটু বেশি। কেননা অতীতের পদোন্নতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে তারা মনে করেন, হয় রাজনৈতিক যোগসূত্রে প্রভাবশালী, না হয় এসএসবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচিত কিংবা বিশেষ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পোস্টিং থাকলে তাদের পদোন্নতি নিয়ে শঙ্কা একটু কমই থাকে। কিন্তু যারা একেবারে সাধারণ কর্মকর্তা, তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রজ্ঞাপন না দেখা পর্যন্ত বহাল থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব মিলিয়ে তিন শতাধিক কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে হবে এসএসবিকে। এর মধ্যে নিয়মিত ব্যাচ হিসাবে ২০তম ব্যাচের রয়েছে বিশাল বহর। এ ব্যাচে পদোন্নতির জন্য প্রাথমিক বিবেচ্য তালিকায় থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা ২৬৫ জন, ইকোনমিক ক্যাডার থেকে একীভূত হওয়া ২০তম ব্যাচের ৩০ জন এবং লেফটআউট ৮ জনসহ ৩৮ জন এবং ২৫% কোটায় আদার্স ক্যাডার থেকে আরও বেশ কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার নাম যুক্ত হয়েছে। এছাড়া পদোন্নতিবঞ্চিত তালিকাও খুব ছোট নয়। যদিও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লেফটআউটের হিসাবে যথেষ্ট গরমিল। প্রতিটি পদোন্নতির পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বঞ্চিতদের অভিযোগ প্রসঙ্গে একটাই মন্তব্য করে থাকে। সেটি হলো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কাউকে বঞ্চিত করা হয়নি। সূত্র বলছে, সিনিয়র ব্যাচ থেকে এর আগে যারা যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন তাদের অন্তত ২৫-৩০ জনের এবার ভাগ্য খুলতে পারে। তবে সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে এটি কেবল ধারণা মাত্র।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত লেফটআউট নিয়ে পর্যালোচনা প্রায় শেষদিকে। পুরো তালিকা পর্যালোচনা করে সুপারিশ করতে কমপক্ষে আরও ৫-৬টি বৈঠক করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি সপ্তাহে দুটি বৈঠক হয়, তাহলে এ মাসের মধ্যে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কোনো কারণে এসএসবির বৈঠক প্রলম্বিত হলে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি নভেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এছাড়া ২০তম ব্যাচকে ভেঙে পদোন্নতি দেওয়া নিয়েও অনেকে শঙ্কায় আছেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ব্যাচের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অনেকের সিরিয়াল শেষদিকে। সঙ্গত কারণে একসঙ্গে ব্যাচ ধরে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমন হিসাব ঠিক থাকলে পদোন্নতির তালিকা বেশ বড় হবে। কিন্তু বেশি সংখ্যায় পদোন্নতি দিতে না চাইলে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদোন্নতিপ্রত্যাশী ২০ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা বলেন, মেধার ভিত্তিতে যোগ্যদের পদোন্নতি দিলে দুশ্চিন্তা হতো না। অতীতে দেখা গেছে, উচ্চপর্যায়ে পরিচিতি ও সম্পর্ক না থাকার কারণে দক্ষ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পদোন্নতি পাননি। অনেকে মাঠ পর্যায় থেকে নেতিবাচক পারফরম্যান্স নিয়ে এসেও পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। এসব কারণে দক্ষ কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তা বেশি। একই ব্যাচের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, যারা দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেন তাদের বেশির ভাগই চাকরি জীবনে কাজের মধ্যে থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সময় ব্যয় করেন। অপরদিকে অদক্ষদের অনেকে শুরু থেকেই লবিং-তদবিরে ব্যস্ত থাকেন। তারা বিশেষ কৌশলে যথাস্থানে যথাযথভাবে ঠিকই পৌঁছে যান। এজন্য সমগ্র চাকরি জীবনে তাদের পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং নিয়ে সমস্যা হয় না। বিপরীতে কাজের মধ্যে থেকে যারা প্রকৃত পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন তাদের পদে পদে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও এটিই প্রশাসনের বাস্তবতা। সব সরকারের আমলে কমবেশি এ রকম সংস্কৃতির চর্চা হয়ে আসছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, যারা মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমস্যা হয় না। কারণ দেশের সেরা অফিসারদের বেছে বেছে এখানে আনা হয়। তারাই সারা দেশের প্রশাসন পরিচালনায় অবদান রাখেন। কিন্তু মাঠ প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় যারা ভালো কাজ করেন তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। এই চ্যালেঞ্জ থেকে প্রশাসন আজও মুক্ত হতে পারেনি। এছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতিবঞ্চিত করার অভিযোগ তো সব সরকারের সময়ে বিদ্যমান। এছাড়া অনেক সময় বিভিন্ন সংস্থার ত্রুটিপূর্ণ ও অসত্য প্রতিবেদনের কারণেও অনেক মেধাবী কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত হতে হয়।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিবেচ্য তালিকায় ২০তম ব্যাচ থেকে যদি ২৪০ জনকেও ফিট ধরা হয়, সেক্ষেত্রে সবাই তো আর পদোন্নতি পাবেন না। অন্যদের ক্ষেত্রেও তাই হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত পদোন্নতির সংখ্যা ২৫০ থেকে ২৭৫ জনের মধ্যে আটকা পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে পদোন্নতিপ্রত্যাশী কর্মকর্তারা মনে করেন, এসএসবি নিশ্চয় আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত কতসংখ্যক কর্মকর্তা অবসরে যাবেন সেই রেশিও বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতির রোডম্যাপ নির্ধারণ করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত